Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীর্ঘ ২ বছর পর ট্রেন দুর্ঘটনার আদ্রার মৃত যুবকের স্ত্রীকে হোমগার্ডে নিয়োগ রাজ্যের

ওড়িশার বালেশ্বর জেলার বাহানাগা বাজার স্টেশনের কাছে রেল দুর্ঘটনায় আদ্রা মিছিরডি গ্রামের যুবক সমীর বাউরির মৃত্যু হয়েছিল।

দীর্ঘ ২ বছর পর ট্রেন দুর্ঘটনার আদ্রার মৃত যুবকের স্ত্রীকে হোমগার্ডে নিয়োগ রাজ্যের
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ওড়িশার বালেশ্বর জেলার বাহানাগা বাজার স্টেশনের কাছে রেল দুর্ঘটনায় আদ্রা মিছিরডি গ্রামের যুবক সমীর বাউরির মৃত্যু হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর পরিবার চাকরি পায়নি। পরিবারের তরফে বিষয়টি বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীকে জানানো হয়। সাংসদ বিষয়টি জানার পরেই রাজ্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। অবশেষে বুধবার জেলা প্রশাসনের কাছে তাঁর স্ত্রীর হোমগার্ডের চাকরি সংক্রান্ত নিয়োগের কাগজ এসে পৌঁছেছে। ফলে দীর্ঘ দু’বছর পর মৃতের স্ত্রী চাকরি পেতে চলেছেন। খবরটি জানার পরেই সমীরবাবুর স্ত্রী রাজ্য সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। 

Advertisement

জেলাশাসক রজত নন্দা বলেন, সমীরবাবুর স্ত্রী ঝর্ণাদেবীর নামে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র এসেছে। বিষয়টি মৃতের পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ২ জুন ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনাটি ঘটে। হাওড়া-চেন্নাই করমণ্ডল এক্সপ্রেস, বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ও একটি মালবাহী ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় ২৯৬ জনের মৃত্যু এবং ৯০০ জনের বেশি জখম হয়েছিলেন। সেই দুর্ঘটনায় রঘুনাথপুরের আদ্রার মিছিরডি গ্রামের সমীর বাউরির মৃত্যু হয়। রাজ্য সরকারের তরফে মৃতদের পরিবারকে এককালীন পাঁচ লক্ষ টাকা ও পরিবারকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সমীরবাবুর পরিবার আর্থিক সহযোগিতা পেলেও চাকরি পেতে সমস্যা হচ্ছিল। 
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন দুর্ঘটনার পর সেখানকার হাসপাতালে পরিবারের সদস্যরা সমীরের দেহ চিহ্নিত করেন। কিন্তু, দেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার আগে অন্য একটি পরিবারের তরফে দেহটি তাঁদের বাড়ির ছেলের বলে দাবি করে। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে ডিএনএ পরীক্ষার পর দেহটি সমীরের বলে নিশ্চিত করা হয়। রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় দুর্ঘটনার প্রায় একমাস পর দেহ গ্রামে নিয়ে আসা হয়।
গ্রামবাসীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সমীরবাবুর দু’টি মেয়ে ও একটি ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছে। ছোট মেয়ে ষষ্ঠশ্রেণিতে পড়ে। ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। এছাড়া শ্বশুর, শাশুড়ি এবং এক দেওর রয়েছে। সাংসদ বলেন, রঘুনাথপুরের স্থানীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিবারটি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। বিষয়টি নবান্নে জানানো হয়। চাকরির নিয়োগপত্র এসেছে শুনে ভালো লাগছে।
মৃতের স্ত্রী ঝর্ণা বাউরি বলেন, হোমগার্ডের চাকরি সংক্রান্ত একটি কাগজ এসেছে। ব্লক ও থানায় গিয়েছিলাম। আমার স্বামীর উপার্জনে সংসার চলত। তার মৃত্যুর পর সংসারে প্রচুর অভাব অনটন দেখা দিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী চাকরি দেওয়ায় খুবই উপকার হয়েছে। এবার সংসারটা কোনওরকম চালাতে পারব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ