নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পাকিস্তানের সেনার হাতে বন্দি স্বামীর খোঁজ নিতে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই স্ত্রী পাড়ি দিয়েছিলেন পাঠানকোট। কিন্তু একরাশ আশ্বাস ছাড়া বিশেষ কিছুই জোটেনি রিষড়ার বাসিন্দা গৃহবধূ রজনী সাউয়ের কপালে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পাঠানকোট, উত্তরাখণ্ড ঘুরে রিষড়ার বাড়িতে ফিরেছেন বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম সাউয়ের স্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, বিএসএফের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সেটাই বড় প্রাপ্তি। স্বামীর অবস্থা সম্পর্কে বিশেষ হদিশ না পেলেও বিএসএফ কর্তারা ধৈর্য ধরতে বলেছেন। রজনী বলেন, ‘আমার স্বামীকে তাঁরা ফেরাবেনই, এমনটাই আশ্বাস দিয়েছেন।’ যদিও তাঁর আত্মীয় সত্যপ্রকাশ গুপ্তা বলেন, ‘বিএসএফ কর্তারা ধৈর্য রাখতে বলেছেন। কিন্তু কতক্ষণ তা সম্ভব হবে জানি না।’
এদিকে, একটা করে দিন পেরিয়ে যাচ্ছে আর উদ্বেগের কালোমেঘ ক্রমশ জমাট বাঁধছে সাউপরিবারের সদস্যদের মধ্যে। পরিবারের ঘনিষ্ঠদের সূত্রে জানা গিয়েছে, রজনীদেবী একদল আত্মীয়দের নিয়ে বিএসএফের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও পূর্ণমের সর্বশেষ অবস্থার কোনও তথ্য পাননি। প্রসঙ্গত, প্রায় দশদিন আগে পাঠানকোট সীমান্তে কর্মরত বিএসএফ জওয়ান তথা রিষড়ার বাসিন্দা পূর্ণম সাউকে পাকিস্তানের সেনা গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরনোর অভিযোগ এনেছে শত্রুদেশ। ওই ঘটনায় দেশের পাশাপাশি রিষড়ার ‘সাউ ভিলা’তেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিএসএফ এই পরিবারকে সরকারিভাবে কোনও তথ্য দেয়নি। এমনই অভিযোগে সরব হয় পরিবার। তারপরে বিএসএফের কর্তারা রজনী সাউয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। কিন্তু তাঁদের কথায় আশ্বস্ত হতে পারেননি পূর্ণমের স্ত্রী। তিনি নিজেই পাঠানকোট সীমান্তে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে হিমাচল প্রদেশের কাংড়ায় বিএসএফের সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিএসএফের শীর্ষকর্তারা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সেখান থেকেই বৃহস্পতিবার রিষড়ার বাড়িতে ফিরেছেন। কিন্তু বড় কোনও সুসংবাদ রজনী দিতে পারেননি।