Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তাহেরপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন, অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

ফের খুনের ঘটনা ঘটল তাহেরপুরে! এনিয়ে গত দেড় মাসে পরপর তিনটি খুনের ঘটনা ঘটল। তিনটি ঘটনাতেই শিকার হয়েছেন মহিলারা।

তাহেরপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন, অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ফের খুনের ঘটনা ঘটল তাহেরপুরে! এনিয়ে গত দেড় মাসে পরপর তিনটি খুনের ঘটনা ঘটল। তিনটি ঘটনাতেই শিকার হয়েছেন মহিলারা। এবার স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে‌ই। মৃতার নাম বেবি সাহা(৪৩)। তাহেরপুর থানার বীরনগর পুরসভা এলাকায় ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। একের পর এক খুনের ঘটনায় এবার তাহেরপুর থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মৃতার পরিবার থানায় খুনের অভিযোগ করেছে। তবে তাঁদের দাবি, পুলিশ তাঁদের সংবাদ মাধ্যমকে কোনও তথ্য দিতে বারণ করেছে।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেবিদেবীর বাপেরবাড়ি বীরনগর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পালিতপাড়া এলাকায়। সেখানে তাঁর স্বামী প্রাণকৃষ্ণ সাহা এসে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মহিলাকে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাণকৃষ্ণ ওড়িশায় ছেঁড়া কাপড়ের ব্যবসা করত। তার আসল বাড়ি কৃষ্ণনগরের বউবাজারে। সেখানকার বাড়ি বিক্রি করে দেওয়ায় তার স্ত্রী বীরনগরে বিভিন্ন জায়গায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তবে শেষ কয়েক মাস তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লাইব্রেরি পাড়ায় থাকছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি ছিল। তবে ঠিক কী নিয়ে অশান্তি তা কেউ বলতে পারেনি। ঘটনাচক্রে বেবিদেবী বুধবারই বীরনগরের তাঁর বাপেরবাড়ি আসেন। অভিযোগ, এদিন সকালে শ্বশুরবাড়িতে আসে প্রাণকৃষ্ণ। প্রথমে সে ওখানে বেশ কয়েকবার ঘোরাঘুরি করে। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সে শ্বশুরবাড়িতে ঢোকে। সেই সময় বেবিদেবী স্নান করছিলেন। হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে স্ত্রীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণকৃষ্ণ। স্ত্রীকে সে এলোপাথাড়ি কোপায়। বেবিদেবীর আর্ত চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এসে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে  রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রাণকৃষ্ণ পলাতক রয়েছে।
মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেবিদেবীর দুই মেয়ে রয়েছে। এরমধ্যে এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে কৃষ্ণনগরে। অন্য মেয়ের শ্বশুরবাড়ি মহিলার বাপেরবাড়ি পালিতপাড়ার কাছেই। এদিন সংবাদ সংগ্রহে গেলে মৃতার এক জামাই সংবাদমাধ্যমকে বাধা দেন। তাঁর দাবি, ‘থানার বড়বাবু সংবাদ মাধ্যমকে কিছু বলতে বারণ করেছেন।’ 
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন  উঠতে শুরু করেছে, পরপর খুনের ঘটনার পর পুলিশের এই ‘নির্দেশ’ কী নিজেদের গাফিলতি ঢাকার চেষ্টা? এই অভিযোগ অবশ্য খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন রানাঘাট জেলা পুলিশের সুপার আশিস মৌর্য। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। পুলিশ কখনওই এই ধরনের কথা বলে না। এক্ষেত্রে ঘটনাটি কী হয়েছে, তা অবশ্যই আমি খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ করব।
পরপর খুন প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা অভিযুক্তকে ধরতে সক্ষম হয়েছি। সমস্ত অপরাধের ক্ষেত্রেই উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সহ অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করা হয়েছে। ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ