Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামনগরে স্বামীকে খুন করে হৃদরোগে মৃত্যু বলে দাবি, ময়নাতদন্তে পর্দাফাঁস, গ্রেপ্তার স্ত্রী

ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে স্বামীর ‘অপমৃত্যু’কে হৃদরোগে মারা গিয়েছেন বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল স্ত্রী। তবে, শেষরক্ষা আর হল না।

রামনগরে স্বামীকে খুন করে হৃদরোগে মৃত্যু বলে দাবি, ময়নাতদন্তে পর্দাফাঁস, গ্রেপ্তার স্ত্রী
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে স্বামীর ‘অপমৃত্যু’কে হৃদরোগে মারা গিয়েছেন বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল স্ত্রী। তবে, শেষরক্ষা আর হল না। স্বামীকে খুনের অভিযোগে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে তাকে। পুলিসের প্রাথমিক ধারণা, ঘুমের মধ্যে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রামনগর থানার চন্দনপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।  ধৃত ওই বধূর অরণ্যা বেরা। সোমবার তাকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। অরণ্যা স্বামীকে খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছে বলে পুলিসের দাবি। ওসি বুদ্ধদেব মাল ও তদন্তকারী অফিসার সন্তু সাঙ্কি বলেন, কীভাবে এবং ঠিক কী কারণে অর‌ণ্যা খুনের ঘটনাটি ঘটাল, সেব্যাপারে বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। আমরা সবদিক খতিয়ে দেখছি।  

Advertisement

গত ৩০ আগস্ট গৌতম বেরা (৩২) নামে এক যুবকের ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যু হ঩য়। ওইদিন সকালে অরণ্যা ঘুম থেকে উঠে চিৎকার করে কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। বাড়ির লোকজনকে বলে, ঘুম ভাঙার পর দেখে বিছানায় স্বামী পড়ে রয়েছে। ডাকাডাকি করলেও তাঁর কোনও সাড়াশব্দ নেই। সম্ভবত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। বাড়ির লোকেরা গৌতমকে দ্রুত দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহটি পাঠানো হয় ময়নাতদন্তে। রিপোর্টে জানানো হয়, যুবকের গলায় শ্বাসরোধের দাগ ছিল। মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাঁকে খুন করা হয়েছে। 
এদিকে, বাড়ির লোকজনও প্রথম থেকেই অরণ্যার দাবি মেনে নিতে পারেননি। তাঁরা অভিযোগ করে আসছিলেন, নিজেদের মধ্যে ঝামেলার জেরে গৌতমকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে অরণ্যা। র্র
বর্তীকালে গৌতমের বাবা সুবলচন্দ্র বেরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস তদন্তে নেমে রবিবার অরণ্যাকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানতে পারে, গৌতম ও অরণ্যার তিন বছরের ছেলে রয়েছে। গৌতম বাগদা ফিশারি করতেন। ফিশারি ব্যবসা করতে গিয়ে স্ত্রীর বেশকিছু সোনার গয়নাগাটি বন্ধক দিতে হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই ব্যবসায় লোকসান হয়। তারপর কাজের খোঁজে গোয়ায় চলে যান গৌতম। গোয়ায় বেশ কিছুদিন কাজ করার পর কয়েকমাস আগে ফিরে আসনি তিনি। ফের এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ারে ফিশারি শুরু করেন। স্ত্রী অরণ্যা গৌতমকে সবসময় বন্ধক দেওয়া গয়নাগাটি উদ্ধারের জন্য চাপ দিত। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করতে পারছিলেন না গৌতম। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। ২৯ আগস্ট রাতে অন্যান্য দিনের মতো খাওয়াদাওয়া করে শুয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ, রাতে গৌতম ও অরণ্যার মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীর গলা টিপে ধরে অরণ্যা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ