সংবাদদাতা, ঘাটাল: টোটো তথা ই-রিকশ কেনার সময় বিডিও অফিসে ৫০০ টাকা দিয়ে নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তারপর ফের নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার নির্দেশ মানতে রাজি নন দাসপুর-২ ব্লকের টোটো চালকরা। এনিয়ে মঙ্গলবার কয়েকশো টোটো চালক তাঁদের গাড়ি নিয়ে বিডিও অফিসে এসে বিক্ষোভ দেখান। সেই সঙ্গে বিডিওকে স্মারকলিপিও দেন। টোটো চালকদের সাফ দাবি, তাঁরা একই গাড়ির জন্য দু’বার রেজিস্ট্রেশন করাবেন না। বিডিও প্রবীরকুমার শীট বলেন, ব্লকের সমস্ত টোটোকে একটি নির্দিষ্ট সিস্টেমে আনার জন্য গত বছর প্রত্যেক চালকের কাছ থেকে ৫০০টাকা নিয়ে এক বছরের জন্য নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এবার রাজ্যজুড়ে টোটোর রেজিস্ট্রেশনের বিষয়টি পরিবহণ দপ্তর দেখছে। এনিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।
চলতি বছরে গোটা রাজ্যে টোটো বা ই-রিকশ নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১০০০ টাকা দিয়ে প্রত্যেক টোটো বা ই-রিকশ চালককে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। তার জন্য একটি নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে প্রত্যেক মাসে ১০০টাকা করে ফি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের পর নম্বর প্লেট ছাড়া টোটো চালানো যাবে না। নির্দিষ্ট আরটিও অফিস বা অনলাইন পোর্টাল parivahan.gov.in–এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। পরিবহণ দপ্তরের দাবি, টোটো চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে এবং দুর্ঘটনা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে টোটো চিহ্নিতকরণ সহজ করবে এই রেজিস্ট্রেশন।
কিন্তু দাসপুর-২ ব্লকের টোটো চালকদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের নির্দেশ আসার আগেই ব্লক অফিস প্রত্যেক টোটোর কাছ থেকে ৫০০ টাকা, গাড়ির নথি, আধার, ছবি নিয়ে ১০ সংখ্যার একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে দিয়েছে। গৌরার কার্তিক বিজলি, চাঁইপাটের গণেশ সামন্ত, উদয়চকের শেখ আবুল কালাম, দরি অযোধ্যার অপর্ণা ঘরামি বলেন, আমরা আর নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করাব না। সেই সঙ্গে মাসে মাসে ১০০ টাকা করেও দেব না।
অপর্ণা বলেন, বর্তমানে টোটোর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ২০০-২৫০ টাকা আয় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই টোটো চালকরা ওই নির্দেশ মানবেন না। সেই দাবি বিডিওর কাছে জানিয়েছি। বিডিও বলেন, টোটো চালকদের এই প্রস্তাব আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেব। এর বাইরে কোনও মতামত দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।