নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও ঢাকা: বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের স্মৃতি আদৌ অটুট থাকবে তো? উৎকণ্ঠায় বিদ্রোহী কবির পরিবার। ঢাকায় নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে কবর দেওয়া হয়েছে মৌলবাদী, ভারতবিদ্বেষী, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে। সেজন্যই কবির স্মৃতিরক্ষা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আসানসোলে পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা বলছেন, এই ঘটনা সাম্যের কবি নজরুলকে অপমানের শামিল। যাঁর সাম্যবাদ ‘বিশ্ববন্দিত’ তাঁর সমাধির পাশে ঠাঁই হল এক মৌলবাদীর! আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থেকে পড়ুয়াদের মধ্যেও অসন্তোষের আঁচ দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মউ চুক্তি রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার আদান-প্রদান হত। এখন পরিস্থিতি জটিল আকার নিয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাইছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউ।
যদিও ক্ষোভ গোপন রাখেননি নজরুল ইসলামের ভাইপোর মেয়ে সোনালি কাজি। তাঁর কথায়, ‘বাংলাদেশ কবির অতি প্রিয় জায়গা। তিনি সেখানেই শান্তি খুঁজে পেয়েছিলেন। একের পর এক অমর সৃষ্টি করেছিলেন। আজ সেই দেশ মৌলবাদীদের কব্জায়। জীবিত অবস্থাতেও কবি বারবার মৌলবাদীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। তবু তাঁর সাম্যবাদের জয় হয়েছে। এখন আমরা আশঙ্কিত। যেভাবে কবির সমাধির পাশে এক জঙ্গি দুষ্কৃতীকে কবর দেওয়া হল, তা কবির অপমান ছাড়া অন্য কিছু নয়। ভবিষ্যতে কবির সমাধিস্থল আর সুরক্ষিত থাকবে তো?’
বিদ্রোহী কবির ছোট ভাই আলি হোসেনের নাতি স্বরূপ কাজীর গলাতেও ক্ষোভ। তিনি বলেছেন, ‘এভাবে জাতীয় কবিকে এক সাধারণ মানুষের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। আমরা চাই ভারত সরকার বিষয়টির উপর কঠোর নজর রাখুক। কবির স্মৃতি চিহ্নটুকু যেন অটুট থাকে।’
বাংলাদেশেও এব্যাপারে বিতর্ক চলছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তবে মৌলবাদীদের রোষের ভয়ে কেউই সরাসরি কিছু বলতে চাননি। নাম গোপন রেখে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। একজন লিখেছেন, ‘অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে একজন গুন্ডাকে মহান কবি কাজি নজরুল ইসলামের পাশে কবর দেওয়া হল।’ মোস্তাফা আমিন নামে একজন এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সহনশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক। আর ওসমান হাদি ছিলেন উগ্রবাদ ও ঘৃণার প্রতিভূ। তাই নজরুলের পাশে হাদিকে কবর দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত।’
ঢাকায় হাদির শেষকৃত্যে ভিড়।-পিটিআই