নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বহু শিক্ষক-চিকিৎসক ১৫-২০ বছর ধরে পিজি-সহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছেন। অন্য কোথাও তাঁদের যাওয়ার নাম নেই। অন্যদিকে, বহু চিকিৎসক রাজ্যের প্রান্তিক এলাকায় পড়ে আছেন, আসতে পারছেন না। এটা চলতে পারে না। প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনুন। সোমবার স্বাস্থ্যভবনে দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে এই দাবি জানাল বিজেপির আট চিকিৎসক-বিধায়কের প্রতিনিধি দল। তাতে ছিলেন ডাঃ ইন্দ্রনীল খান, ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ডাঃ বিজনকুমার মুখোপাধ্যায়, ডাঃ হরেকৃষ্ণ বেরা প্রমুখ। মেডিকেল এডুকেশন সার্ভিস (শিক্ষক চিকিৎসকদের শাখা), হেলথ সার্ভিস (অ-শিক্ষক চিকিৎসকদের শাখা), ফার্মাসি কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংস্থার বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষ হতেই পূর্বতন সরকার মনোনীত মেডিকেল কাউন্সিলের তিন চিকিৎসক প্রতিনিধি ডাঃ নির্মল মাজি, ডাঃ সৌরভ পাল এবং ডাঃ অসীমকুমার সরকারকে সরিয়ে দেয় স্বাস্থ্যভবন।
এদিন যেকোনো রকমের স্বাস্থ্য দুর্নীতিতে ‘নো টলারেন্স নীতি’ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিধায়করা বলেন, অভিযোগের সারবত্তা পাওয়ামাত্রই এফআইআর রুজু করুন। নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, সমস্ত প্রতিহিংসামূলক বদলি প্রত্যাহার করারও দাবি জানান তাঁরা। তাঁরা বলেন, দপ্তরের উচিত স্বচ্ছ বদলি ও পদোন্নতি নীতি তৈরি করা। এদিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সিনিয়র রেসিডেন্টদের মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং ফিরিয়ে আনা। বিধায়করা বলেন, স্বাস্থ্যদপ্তরের বিভিন্ন কাউন্সিলে আগের সরকার মনোনীত রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সরাতে হবে। সেখানে যোগ্য ও উচ্চশিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের আনতে হবে। বৈঠকে মেদিনীপুরে মেডিকেল কলেজের সেই স্যালাইন কাণ্ডের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বিধায়করা বলেন, ওই কেসের তদন্ত শেষ করেছেন? যাঁদের দোষ নেই, সেই চিকিৎসকদের অভিযোগমুক্ত এবং যাঁদের দোষ আছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন? ফেলে রেখেছেন কেন? প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। কেস ক্লোজ করুন।
পুরুলিয়ায় চিকিৎসকদের উপর হামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণে দেরি হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নও ওঠে। পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুনের নেতৃত্বে ৩০ জনের প্রতিনিধি দল বিধায়কদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সরকারি কর্মীর স্বীকৃতি, সমকাজে সমবেতন, বকেয়া অর্থ প্রদান প্রভৃতি নিয়ে ৭ দফা দাবিপত্র তুলে দেওয়া হয় তাঁদের তরফে। এদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীলবাবু বলেন, স্বাস্থ্যে দুর্নীতি বরদাস্ত করবে না এই সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বার্তাই আমরা স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকদের কাছে তুলে ধরেছি।