নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: বাংলার বাড়ি আওতায় প্রথম ধাপে জেলার প্রায় ৪০ হাজার বাসিন্দার পাকাবাড়ির স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। দ্বিতীয় ধাপে কারা পাকা ঘর পাবেন, সেই তালিকা চূড়ান্ত করতে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন আসরে নেমেছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার ২০টি ব্লকেই পৃথকভাবে বাংলার বাড়ি গ্রামীণ প্রকল্পে নতুন উপভোক্তাদের তালিকা তৈরির জন্য ‘সুপার চেকিং’ পর্ব চলছে। এক্ষেত্রে যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভের কাজ করা হচ্ছে। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যেই এই সুপার চেকিং পর্ব শেষ করে জেলা প্রশাসন যোগ্য উপভোক্তাদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ শেষ করতে চাইছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, প্রায় একমাস আগেই সুপার চেকিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। তালিকায় থাকা প্রতিটি উপভোক্তার বাড়িতে পৌঁছে সার্ভের কাজ করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। বাংলার প্রতিটি গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের পাকাবাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর। সেই মোতাবেক চলতি বছরের শুরুতেই রাজ্যের নানা প্রান্তের উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে বাংলার বাড়ি গ্রামীণ প্রকল্পে ঘর তৈরির টাকা পাঠানো হয়। পুরুলিয়া জেলার ৩৯হাজার ৩৩১জন উপভোক্তার নাম সেই তালিকায় ছিল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা হাতে পাওয়ার পর জেলার একাধিক ব্লকের বহু উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে এখনও কাজ চলছে। প্রশাসনিক কর্তাদের আশা, অতি দ্রুত প্রথম দফার প্রত্যেক উপভোক্তার বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে এবার দ্বিতীয় ধাপে উপভোক্তাদের নামের তালিকা প্রস্তুত করতে জেলা প্রশাসনের অন্দরমহলে তোড়জোড় চলছে। প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, পুরনো তালিকা অনুসারে দ্বিতীয় ধাপে জেলার প্রায় ৫১ হাজার ৮৪৬জন উপভোক্তাদের নাম রয়েছে। সেই তালিকা অনুসারে জেলার বরাবাজার ব্লকে সম্ভাব্য উপভোক্তার সংখ্যা সব থেকে বেশি। তবে, তালিকায় নাম থাকা প্রত্যেকেই কি যোগ্য উপভোক্তা? তা নিশ্চিত করতেই এই সুপার চেকিং। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখ থেকে ব্লক ভিত্তিক সুপার চেকিং শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সুপার চেকিং পর্ব শেষ করা সম্ভব হবে। এই সময়কালেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট সহ অন্যান্য তথ্যও যাচাইয়ের কাজ চলছে। সব ঠিকঠাক থাকলে সুপার চেকিং পর্বে উঠে আসা যোগ্য উপভোক্তারা অতি দ্রুত পাকাবাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির টাকা হাতে পাবেন।