সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ ও ইসলামপুর: ২১ দিনের বেশি সময় চেয়ারম্যানহীন পুরাতন মালদহ পুরসভা। গত ২৫ নভেম্বর পদ থেকে ইস্তফা দেন কার্তিক ঘোষ। আজ, বুধবার শেষপর্যন্ত অচলাবস্থা কাটতে চলেছে। এদিকে, দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ডালখোলা পুরসভাতেও আজ চেয়ারম্যান নির্বাচনের দিকে নজর রয়েছে সবপক্ষের।
সোমবার বিকেলে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পুরাতন মালদহ পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলারদের নিয়ে অভ্যন্তরীণ বৈঠক হয়। সেখানে খোদ দলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জানিয়ে দিয়েছেন। বুধবার একটি খাম জেলা কমিটির পক্ষ থেকে পুরাতন মালদহের স্থানীয় নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ১৮ জন কাউন্সিলারের মধ্যে যাঁর নাম ওই খামে থাকবে, তাঁকে চেয়ারম্যান হিসাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলারদের সমর্থন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রহিম বলেন, খাম নিয়ে পুরাতন মালদহে যাব। নিয়ম অনুযায়ী পুরসভার মিটিংয়ের ঘরে যেতে পারব না। খামে থাকা দলের সিদ্ধান্ত তৃণমূল কাউন্সিলারদের জানিয়ে দেওয়া হবে। সেটাই চূড়ান্ত।
এদিকে, দলের নির্দেশে ডালখোলা পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের স্বদেশ সরকার। এর পর নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে বারবার নাটকীয় পট পরিবর্তন হয়েছে। চেয়ারম্যান নির্বাচন নিয়ে বৈঠক ডাকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করাতে পারেননি। নিয়ম অনুসারে এর পর তিনজন কাউন্সিলার বৈঠক ডেকেছেন। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় হবে নির্বাচন।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের অনুমোদন না নিয়ে তৃণমূলের তিন বিদ্রোহী কাউন্সিলার এই বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠক শুরুর আগে দল যদি চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করে, সেক্ষেত্রে নির্বাচনের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু দল সিদ্ধান্ত না নিলে নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান বাছা হবে।
তৃণমূল জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, দলের অনুমোদন না নিয়েই চেয়ারম্যান নির্বাচনের বৈঠক ডেকেছেন তিন কাউন্সিলার। এই বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। চেয়ারম্যান নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে কি কারও নাম ঘোষণা করা হবে? কানাইয়া বলেন, এখনও পর্যন্ত কারও নাম আসেনি।
এদিকে কাউন্সিলার গোপাল রায় বলেন, সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করব। দল যদি কারও নাম ঘোষণা করে, সবাই মেনে নেব। না হলে নিয়ম অনুসারে বৈঠক হবে।
চেয়ারম্যান হিসেবে দল সুজনা দাসের নাম ঘোষণা করেছিল। কিন্তু দলের ১০ জন কাউন্সিলার সুজনার বিরোধিতা করায় এতদিন চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়নি। এবার অনুমোদন ছাড়া নির্বাচন হলে দল কী ব্যবস্থা নেয়, কিংবা নেতৃত্বের ভূমিকা কী হবে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।