Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নতুন চেয়ারম্যান কে? জোর চর্চা রঘুনাথপুরে

রঘুনাথপুর পুরসভার প্রশাসককে সরিয়ে ফের কাউন্সিলারদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কাউন্সিলাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন করে চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে আদালত।

নতুন চেয়ারম্যান কে? জোর চর্চা রঘুনাথপুরে
  • ১৮ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর পুরসভার প্রশাসককে সরিয়ে ফের কাউন্সিলারদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কাউন্সিলাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন করে চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে আদালত। কবে হবে সেই তলবি সভা, পরবর্তী চেয়ারম্যানই কে হবেন, এনিয়ে শহরবাসীর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, বুধবার দলের রাজ্য নেতৃত্ব রঘুনাথপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলারদের ডেকে পাঠিয়েছে। রাজ্যের তরফে কী বার্তা দেওয়া হয়, সেই দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

সোমবার রঘুনাথপুর পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেভাবে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে তা ‘অবৈধ’। গত ১৯ মে প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা জারি করেছিল রাজ্য, তা নাকচ করে দিয়েছে আদালত। পশ্চিমবঙ্গ পুরআইন ৪৩১ নম্বর ধারার একাধিক উপধারা উল্লেখ করে বিচারপতি জানিয়েছেন, রঘুনাথপুর পুরসভায় রাজ্য সরকার যেভাবে হস্তক্ষেপ করেছে, তা নিয়মবিরুদ্ধ। আদালতের এই রায়ের পর রঘুনাথপুর পুরসভাকে নিয়ে শহরজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়। আদালতের নির্দেশ মতো কাউন্সিলাররা যদি তলবি সভা ডেকে তরণী বাউরিকে অপসারণ করেন, তাহলে নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন? সেই নিয়ে এখন নানা জল্পনা চলছে। 
প্রসঙ্গত, চেয়ারম্যানকে সরাতে অনাস্থা এনেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার প্রণব দেওঘরিয়া, মৃত্যুঞ্জয় পরামানিক, মালবিকা সাই, সুশান্ত শেখর ঘোষ ও আনন্দ বাউরি। অনাস্থা এনেছিলেন বিজেপি থেকে তৃণমূলে আগত জয়দেব বাগদি এবং কংগ্রেস কাউন্সিলার রবীন্দ্রনাথ চৌধুরী। ২০২২ সালের পুরবোর্ড গঠনের সময় জয়দেববাবু বাদে চেয়ারম্যানের দাবিদার ছিলেন তৃণমূলের পাঁচ কাউন্সিলারই। যদিও দলের তরফে তরণীবাবুকেই চেয়ারম্যান করা হয়। এনিয়ে ক্ষোভ ছিল বাকিদের মধ্যে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাঁরা একাধিকবার রাজ্য নেতৃত্বের দ্বারস্থ হন। তরণীবাবুকে দল সাবধান করলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। এমনকী, তাঁর ছায়াসঙ্গী বলে পরিচিত জয়দেববাবু, আনন্দবাবুর মতো কাউন্সিলাররা একসময় নিজেদের সরিয়ে নেন। তাতেই বিপাকে পড়েন তরণীবাবু!
বর্তমানেও নতুন চেয়ারম্যানের দাবিদার রয়েছেন অনেকেই। অনাস্থা নিয়ে আসা কাউন্সিলারদের মধ্যে অন্যতম প্রণববাবু। সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান পদের দাবিদার হিসেবে তাঁকেই অনেকে মনে করছেন। কিন্তু, পিছিয়ে নেই সুশান্তবাবুও। কারণ পুরভোটের প্রথম প্রার্থী তালিকায় নাম ছিল না সুশান্তবাবুর। কিন্তু, দ্বিতীয় তালিকায় হঠাৎ করেই তাঁর নাম দেখা যায়। দলের অন্দরে তাঁর ‘প্রভাব’ রয়েছে। আবার  বাউরি অধ্যুষিত রঘুনাথপুরে তরণীবাবুর পরবর্তী যদি ওই সমাজের কাউকে চেয়ারম্যান করতে হয়, সেক্ষেত্রে নাম ভাসছে আনন্দ বাউরিও। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে বুধবার রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের ফল কী হয়, তার উপর। 
এনিয়ে অনাস্থা নিয়ে আসা কাউন্সিলারদের অন্যতম প্রণববাবু ও মৃত্যুঞ্জয়বাবু বলেন, দল যেমন নির্দেশ দেবে, সেই মতো আমরা এগব। প্রাক্তন চেয়ারম্যান তরণীবাবু বলেন, নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে কেউ যদি বিজেপি, কংগ্রেসকে নিয়ে বোর্ড গঠন করে দল সেটা দেখবে। আগামীতে কী হচ্ছে, আমি শুধু দেখে যাব।
মামলাকারী বিজেপি কাউন্সিলার দীনেশ শুক্লা বলেন, রাজ্য সরকার পুরসভার দুর্নীতি ঢাকতে বোর্ড বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু, হেরে গিয়েছে। আমার জন্য পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলার দু’বছর নিজেদের ক্ষমতা ফিরে পেয়েছেন।  আগামী দিন পুরসভায় ‘গেরুয়া’ চেয়ারম্যান হচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেছেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ