ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: দুপুরের খাওয়াদাওয়া সেরে রাস্তার ধারে বসে রোদ পোহাচ্ছিলেন দোমোহনির কাঁঠালবাড়ির বাসিন্দা কৃষ্ণ দাস। এলাকার বিধায়কের নাম কী? জিজ্ঞেস করতেই মাথা চুলকাতে শুরু করেন পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি। কিছুটা এগতেই দেখা হয় ময়নাগুড়ি শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পেশায় পুরোহিত হরেন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সাইকেলে চেপে কাঁঠালবাড়ি থেকে পুজো সেরে ফিরছিলেন। তিনিও এলাকার বিধায়কের নাম জানেন না। বললেন, ‘ছবিতে দেখেছি। সামনাসামনি কখনও আমাদের এমএলএ’কে দেখিনি।
দোমোহনি মোড়ের চায়ের দোকানে রবিবার ছুটির দিনে ভিড় জমিয়েছিলেন এলাকার মানুষ। বার্নিশ অঞ্চলের উত্তর মরিচবাড়ির বাসিন্দা পেশায় গ্রিল মিস্ত্রি সুধীর সরকার বলেন, পাঁচ বছর আগে ভোটের প্রচারে বিজেপির প্রার্থীকে দেখেছিলাম। বিধায়ক হওয়ার আর তাঁর দেখা পাইনি আমাদের এলাকায়। বার্নিশের দক্ষিণ মরিচবাড়ির বাসিন্দা কৃষক সুনীল সরকারের ক্ষোভ, গত অক্টোবরের প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিস্তার গাইড বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। নদীর জল ঢুকে আমার লঙ্কাখেত নষ্ট হয়ে গেল। জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এলাকার বিধায়ককে তো খুঁজে পাই না। বার্নিশের ভুট্টা চাষি বিমল মল্লিকও জানেন না, তাঁর এলাকার বিধায়ক কে? বললেন, রাস্তাঘাট, পানীয় জল এসব নিয়ে সমস্যায় রয়েছি।
এনিয়ে তোপ দাগতে ছাড়ছে না বাম ও তৃণমূল কংগ্রেস। যুব তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি রামমোহন রায়ের দাবি, ২০২৪ সালে বার্নিশের বিধ্বংসী ঝড় হোক কিংবা গত অক্টোবরে হয়ে যাওয়া দুর্যোগ, সব জায়গাতেই দুর্গতদের পাশে থেকেছি আমরা। পদ্ম পার্টির কাউকে দেখা যায়নি। আর ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়ককে তো মানুষ চেনেনই না।
সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্রের মন্তব্য, বিধায়ক মানুষের কাছে গেলে নিশ্চয়ই জনগণ তাঁর নাম জানবেন। কিন্তু মানুষ যখন বিধায়কের নাম বলতে পারছে না, তাহলে বুঝতে হবে, জনগণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নেই। যদিও তাঁর তোপ, এ ব্যাপারে বিজেপি যেমন, তৃণমূল কংগ্রেসও একই। তাদের জনপ্রতিনিধিরা মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে বিন্দুমাত্র আগ্রহী নন।
বার্নিশের বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী সঞ্জয় কীর্তনিয়ার সাফাই, সবাই তো আর রাজনীতির সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে যুক্ত নেই। সেকারণে হয়তো বিধায়কের নাম বলতে পারছেন না। কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় পদ্মফুল চিহ্নেই দেবেন। আর যাঁকে এলাকায় দেখা যায় না বলে সাধারণ মানুষের এত অভিযোগ, ময়নাগুড়ির সেই বিজেপি বিধায়ক কৌশিক রায়ের দাবি, আমি সর্বত্রই যাই। এখন কেউ যদি বলেন, তিনি আমার নাম জানেন না, আমাকে চেনেন না, সেক্ষেত্রে আমার কী করার আছে!
রবিবার ময়নাগুড়ির বিভিন্ন মণ্ডলে বিজেপি এমপি জয়ন্ত রায় বৈঠক করলেও তাঁর সঙ্গে ছিলেন না দলের স্থানীয় বিধায়ক। দলের এমএলএ’কে ঘিরে মানুষের ক্ষোভ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বিজেপি সাংসদের মন্তব্য, বিধায়কের কথা ছাড়ুন। আমাকে প্রতিটি এলাকায় দেখা যায় কি না বলুন। • কৌশিক রায়।