Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

কে নায়ক, কে খলনায়ক?

ক্রূর অথচ শান্ত দৃষ্টি। একে অপরের দিকে তাকিয়ে দুই নায়ক। ফুঁসছেন রাগে। একে অপরকে শেষ করে দেওয়ার বাসনায়। ওই মুহূর্তে মহাভারতের সংলাপই যেন আওড়চ্ছিলেন দু’জন।

কে নায়ক, কে খলনায়ক?
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ১৮:০৮
Prefer us on Google

‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’। 
ক্রূর অথচ শান্ত দৃষ্টি। একে অপরের দিকে তাকিয়ে দুই নায়ক। ফুঁসছেন রাগে। একে অপরকে শেষ করে দেওয়ার বাসনায়। ওই মুহূর্তে মহাভারতের সংলাপই যেন আওড়চ্ছিলেন দু’জন। হৃতিক রোশন এবং জুনিয়র এনটিআর। তাঁদের লড়াই যে কেবল সিনে দুনিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে নয়। বাস্তবেও। একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার স্নায়ুযুদ্ধ। আর সেই লড়াই প্রায় তিন ঘণ্টা উপভোগ করা যায়। 
যশরাজ ফিল্মসের স্পাই ইউনিভার্সের অন্যতম সফল ছবি ‘ওয়ার’। ছ’বছর পর সিক্যুয়েলের গল্প শুরু হয় আগের ছবির পথ ধরেই। জাপানে এক অভিযানে গিয়েছে কবীর (হৃতিক)। সেখানে শত্রুশিবিরকে ধ্বংস করার পর তার উপর আরও গুরুদায়িত্ব চাপে। কর্নেল সুনীল লুথরাকে (আশুতোষ রানা) মারতেও পিছপা হয় না সে। সুনীলের পরিবর্তে আসেন নতুন ওয়ার চিফ (অনিল কাপুর)। কবীরকে ধরতে গড়ে ওঠে নতুন টিম। নেতৃত্বে বিক্রম (জুনিয়র এনটিআর)। সঙ্গে সুনীল লুথারের মেয়ে তথা উইং কমান্ডার কাব্য (কিয়ারা আদবানি)। শুরু হয় ইঁদুর দৌড়। কে নায়ক, কে খলনায়ক... ঘুরপাক খায় প্রশ্ন। 
জল, স্থল, আকাশ— সর্বত্র দুই নায়কের দ্বৈরথ দেখিয়েছেন পরিচালক অয়ন মুখোপাধ্যায়। ট্রেন ও গাড়িতে হৃতিক, এনটিআরের লড়াইয়ের দৃশ্য মনে রাখার মতো। আবার তার পরেই বিমানের মধ্যে অ্যাকশন খাপছাড়া। প্রথমার্ধ বড্ড টেনে বড় করা। সম্পাদক চাইলেই আরও কাঁচি চালাতে পারতেন। নাচে একে অপরকে পাল্লা দিতে পারেন হৃতিক ও এনটিআর। ‘জনাবে আলি’ গানে দুই তারকার ফেসঅফের সুযোগ ছিল। তবে সিনেমা দেখতে বসলে প্রশ্ন জাগবে, তাঁদের সেই দক্ষতা ব্যবহার করা হল কোথায়? আচমকাই গল্পে ঢুকে পড়ে হৃতিক ও কিয়ারার প্রেম। তাঁদের রসায়ন অপূর্ব। স্বল্প পরিসরে কিয়ারার অ্যাকশনও ভালো লাগে। আর হৃতিক! বাস্তবে যে হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন, পর্দায় দেখে বোঝা মুশকিল। ভার্সেটাইল অভিনয়, স্ক্রিন প্রেজেন্স দিয়ে তিনি সহস্র গোল দিতে পারেন। তাঁর সামনে এনটিআরও সপ্রতিভ। লোকেশন, ক্যামেরার কাজ প্রশংসনীয়। ছবির মেকিংও আধুনিক। অপ্রয়োজনীয় ক্যামিওর আবির্ভাব নেই। অ্যাকশন দৃশ্যে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভালো। তবে গান নিয়ে প্রীতমের কাছে শ্রোতাদের প্রত্যাশা খানিকটা বেশিই। ‘ওয়ার’-এর ক্লাইম্যাক্সে পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ যে ট্যুইস্ট তিনি দিয়েছিলেন, তা অকল্পনীয়। এখানে তেমনটা হয়নি। চমক আসলে রিলিজের আগেই পেয়েছেন আপনি। ছবিটা দেখলে সেটা বুঝবেন। ট্রেলারে গল্পের যে আঁচ পেয়েছেন, ট্যুইস্ট লুকিয়ে সেখানেই। 
গল্পের মূল ভিলেন কলি। তাকে মারতেই কল্কি হয়েছেন হৃতিক। কিন্তু কে এই কলি? তার হদিশ নেই। তবে ভালো-মন্দ তো থাকবেই। স্বাধীনতা দিবসের মরশুমে দেশপ্রেমের সঙ্গে বিশুদ্ধ বিনোদন, একফ্রেমে হৃতিক ও এনটিআর— তাই বা কম নাকি?

Advertisement


শান্তনু দত্ত 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ