


• বাবা-মায়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়েই কি অভিনয়ে এলেন?
অবশ্যই বাবা-মার পেশা আমার ওপর প্রভাব ফেলেছে। কারণ ছোট থেকে ওঁদের রিহার্সাল দেখেছি। সেই আবহের মধ্যেই বড় হয়েছি। তবে শুধু সেটাই নয়। স্কুল, কলেজে নাটক করা, ভালো সিনেমা এবং থিয়েটার দেখা, এসবের প্রতিও আমার নিজের আগ্রহ ছিল। তাই বলা যায়, পারিবারিক পরিবেশের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভালো লাগা— দুটো মিলেই এই পথে এসেছি।
• অভিনয় করবেন জেনে বাবা, মা কোনো পরামর্শ দিয়েছিলেন?
হ্যাঁ, বাবা, মা বলেছিলেন মাথা নিচু রেখে নিজের কাজ করে যেতে হবে। কারণ এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকা এবং কাজ পাওয়ার জন্য এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শিখিয়েছেন, মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখাটাই আসল।
• ‘স্টার কিড’ হিসেবে আপনাকে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে?
আমরা কিছু ক্ষেত্রে প্রিভিলেজ। মাথার ওপর ছাদ, পেটে খাবার আছে। তাই সেগুলো নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি। বরং আমার কাছে এই সময়টা ছিল উত্তরণের। সব মিলিয়ে বলতে পারি, এখনো পর্যন্ত এই অভিজ্ঞতা নিয়ে আমার অভিযোগ নেই।
• প্রত্যাখ্যান কীভাবে সামলান?
এ তো আমাদের কাজেরই অংশ। ৫০-৬০ টা অডিশন দিয়ে মাত্র কয়েকটাতে সুযোগ পেয়েছি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘রিজেকশন’ সামলাতে শিখেছি। তবে এখনও কষ্ট লাগে, আর সেটা লাগাও উচিত। কারণ ওই অনুভূতিটাই আমাকে আরও ভালো করার, আরও পরিশ্রম করার অনুপ্রেরণা দেয়।
• আপনি মুম্বই, মহারাষ্ট্রের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। এখনও কি ফুটবল খেলেন?
এখন সেমি-প্রফেশনালি খেলি। আমি মুম্বই ইউনিভার্সিটির ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলাম এবং ইন্ডিয়া আন্ডার-১৫ ন্যাশনাল ক্যাম্পেও সুযোগ পেয়েছিলাম। ১৬-১৭ বছর বয়সে কলকাতায় ট্যুরে গিয়ে ইস্ট বেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব-এর আন্ডার-১৯ দলের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম— দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল।
• প্রশংসা, নাকি সমালোচনা, বাবা-মায়ের থেকে কোনটা বেশি পান?
রিলিজের পর বাবা, মায়ের সঙ্গে বসে আমার অভিনয় দেখি। তখন ওঁদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়। যেখানে প্রশংসা এবং সমালোচনা দুটোই থাকে। তবে ওঁরা আমার কাজ নিয়ে খুবই সাপোর্টিভ।
• আপনি লেখক এবং অভিনেতা, পরিচালনা নিয়ে কিছু ভেবেছেন?
আমি আসলে এক-দুটো শর্ট ফিল্ম পরিচালনা করেছি। কিন্তু এখন পরিচালনায় তেমন আগ্রহ নেই। তবে হয়তো পাঁচ-ছয় বছর পর নির্দেশনার কথা ভাবতে পারি।
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই