


• প্রয়াত অভিনেতা, বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত। শুক্রবার দুপুরে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দেড় বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন অভিনেতা। অটোইমিউন রোগে ভুগছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণের খবর জানিয়েছেন স্ত্রী রুমা দাশগুপ্ত।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শিল্পী। অভিনয় জীবন শুরু ২০০৪ সালে। ‘শ্যাডোজ় অফ টাইম’ ছবির হাত ধরে। পরবর্তীতে একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করে নিজের স্বতন্ত্র উপস্থিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি বাচিকশিল্পী হিসেবেও সমান দক্ষ ছিলেন বিপ্লব। তাঁর কণ্ঠস্বর ও উপস্থাপনার ভঙ্গি শ্রোতাদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর থেকেই বিপ্লবের জীবনের পথ যেন এক অদ্ভুত বহুমাত্রিক যাত্রায় মোড় নেয়। সাহিত্যচর্চা, নাট্যজগৎ এবং চলচ্চিত্র—তিন ক্ষেত্রেই তিনি ধীরে ধীরে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল অনন্য, আবৃত্তিতে ছিল গভীরতা ও আবেগের সুনিপুণ মিশেল—যা তাঁকে স্বল্পসময়ের মধ্যেই এক সুদক্ষ আবৃত্তিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তবে শিল্পের জগতে প্রবেশ করেও তাঁর কর্মজীবনের শুরুটা কিন্তু একেবারেই ভিন্ন পথে—স্কুল শিক্ষক হিসেবে। শিক্ষকের পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকেও তিনি শিল্পসত্তাকে কখনও বিস্মৃত হননি। বরং সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পরে ধীরে ধীরে ভয়েস-ওভার আর্টিস্ট হিসেবে নিজের কণ্ঠকে নতুনভাবে ব্যবহার করতে শুরু করেন বিপ্লব। বিজ্ঞাপনের জগতে দীর্ঘদিনের কাজ তাঁকে পরিচিতি দেয় এক ভিন্ন পরিসরে। ‘বাইশে শ্রাবণ’ (২০১১), ‘ফেলুদা’ (২০১৭), ‘গুমনামি’ (২০১৯)-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছিল। অভিনয় করেছেন ধারাবাহিকেও। শেষপর্যন্ত, নানা অভিজ্ঞতার ভাঁজ পেরিয়ে অভিনয়কেই তিনি নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন। সেই সিদ্ধান্তই যেন তাঁর শিল্পীসত্তার প্রকৃত পরিণতি—যেখানে কণ্ঠ, আবেগ ও অভিজ্ঞতা একসূত্রে গাঁথা হয়ে তাঁর পরিচয়ের মূল ভিত্তি ওঠে।