সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এবার কে হবেন চেয়ারম্যান? তা নিয়ে এখন কোচবিহারের অলিগলি থেকে চায়ের ঠেক সর্বত্রই চর্চা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এবার কে হবেন চেয়ারম্যান? তা নিয়ে এখন কোচবিহারের অলিগলি থেকে চায়ের ঠেক সর্বত্রই চর্চা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতাকে পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিতে আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন দলের জেলা সভাপতি। কিন্তু সেই সময় এই দুঁদে রাজনৈতিক নেতা দাবি করেছিলেন, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ পেলে তবেই তিনি সরে যাবেন। সেই নির্দেশ আসে শুক্রবার রাত ৯টায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিতেই শনিবার সেই নির্দেশ পালন করেছেন তিনি।
এর আগে যখন দলের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তখনও পুরসভার ভাবী চেয়ারম্যান হিসেবে নাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দিলীপ সাহার নাম নিয়ে চর্চা হচ্ছে। জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দিলীপবাবু। তিনি চেয়ারম্যান হলে পুরসভার রাশ বকলমে জেলা সভাপতির হাতে থাকবে বলেই মনে করছেন রবিপন্থী তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তিনিই হবেন পুরসভার প্রকৃত নিয়ন্ত্রক। যদিও দিলীপবাবু না অন্য কাউকে শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান করা হবে কি না তা নিয়েও চর্চা রয়েছে।
দিলীপবাবুর দাবি, এরমধ্যে দলের একটি বৈঠক হবে। সেই বৈঠক হওয়ার পরেই সব ঠিক হবে। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যা করার দলই করবে। আমরা দলের অনুগত সৈনিক। সদ্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, বোর্ড অব কাউন্সিলের বৈঠকে আমাকে ডাকা হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানা নেই।
এদিকে, কোচবিহার পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন আমিনা আহমেদ বলেন, এখনও পর্যন্ত যা খবর ১৩ জানুয়ারি বোর্ড অব কাউন্সিলের বৈঠক ডাকার কথা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে যা নির্দেশ আসবে সেটাই মানা হবে।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে রবিবাবুকে ইস্তফা দিতে আগেই বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় তিনি তা মানেননি। এবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করেছেন। কোচবিহারে জেলা তৃণমূল সভাপতি, মন্ত্রী উদয়ন গুহ বনাম রবি, পার্থের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার শহরে লিড পায়নি তৃণমূল। তার উপর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন রবি ঘোষ। যা নিয়ে জল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত গড়িয়েছিল। • দলীয় কর্মসূচিতে রবি ঘোষ। - নিজস্ব চিত্র।