নয়াদিল্লি: নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে দু’দিন আগেই সাক্ষাৎ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ওই ঘটনার পরই মোদির অবসর নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে মোদির ৭৫ বছর বয়স হয়ে যাচ্ছে। এরপর আর মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে আরএএস নারাজ বলে দাবি করে বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছেন দিয়েছেন শিবসেনা (উদ্ধব) সাংসদ সঞ্জয় রাউত। এর সূত্র ধরেই প্রশ্ন উঠেছে, মোদির উত্তরসূরি কে? উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, না মোদি সরকারের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অমিত শাহ? এরইমধ্যে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে মুখ খুললেন যোগী। এক সাক্ষাৎকারে বললেন, ‘আমি অন্তর থেকে যোগী। রাজনীতি আমার পূর্ণ সময়ের কাজ নয়।’ তাহলে কতদিন তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন? তাঁর উত্তর, ‘এরও একটা সময়সীমা রয়েছে’। যোগীর এই ‘সময়সীমা’ মন্তব্যকে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বেশ কিছু দিন ধরেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগীর মতপার্থক্যের খবর সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, এরই প্রেক্ষাপটে নিজের ‘যোগী পরিচয়’ ও ‘সময়সীমা’ উল্লেখ করে দলকেই কি কোনও বার্তা দিলেন গোরক্ষপুর মঠের প্রধান? কট্টর হিন্দুত্ব নীতি ও কুম্ভ মেলার আয়োজনের মাধ্যমে গেরুয়া শিবিরে নিজের জায়গা পোক্ত করে তুলেছেন যোগী। এরইমধ্যে বিজেপি শিবিরের একাংশ তাঁকেই মোদির উত্তরসূরি হিসেবে দেখছে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হিন্দুত্ব রাজনীতির এই পোস্টার বয় বলেন, আমি উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের মানুষের সেবাই আবার প্রাথমিক কাজ। দল আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। তাছাড়া রাজনীতি আমার কাছে পূর্ণ সময়ের কাজ নয়। আদতে অন্তরে আমি একজন যোগী। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকার কথাও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। যোগী বলেছেন, দলের জন্যই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে রয়েছেন। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতভেদ থাকলে তিনি এই পদে থাকতে পারতেন না।
আরএসএসের সমর্থন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে যোগী বলেন, ভারতের প্রতি যারা দায়বদ্ধ তাদের পাশে থাকে যে কোনও হিন্দুত্ব সংগঠন। উত্তরপ্রদেশের বাইরে অন্যান্য রাজ্যগুলিতে বিজেপির প্রচারক হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তার বিষয়টিও ‘নির্বাচনী কৌশল’ বলে খাটো করে দেখাতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে উত্তর দিতে দিয়ে অবশ্য প্রশাসক হিসেবে নিজের সাফল্যের দাবি জানাতে ভোলেননি যোগী। ছবি: পিটিআই