দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। শনিবার যন্তরমন্তরের ধর্নামঞ্চে অভিজিৎ দিপকের কাছে তাই খবরটা প্রথম এল একজন ‘ককরোচে’র ফোন কলেই—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। মুহূর্তকাল নিশ্চুপ। তারপরই সটান উঠে দাঁড়ালেন দিপকে। এক হাতে ফোন ধরা। মুষ্টিবদ্ধ অন্য হাত তুললেন। এগিয়ে গিয়ে মাইক্রোফোনে ঘোষণা করলেন পদত্যাগের খবর। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন, ‘মাত্র একটি উইকেট পড়েছে। এই তো সবে শুরু।’ যন্তরমন্তরে উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষ একসঙ্গে সোল্লাসে চিৎকার করে উঠল, ‘জয় হো!’ প্রবলভাবে উড়ছে তিরঙা। মুহুর্মুহু আওয়াজ উঠছে, ‘বন্দেমাতরম’। ‘ভারতমাতা কি জয়’। কেউ কাঁদছেন। কেউ পাশের জনকে জড়িয়ে ধরছেন। ততক্ষণে হাঁটু ভাঁজ করে মঞ্চে বসে পড়েছেন অভিজিৎ। দু’হাতে ক্রমাগত ঘুষি মেরে চলেছেন মঞ্চের মেঝেতে। একসময় শুয়ে পড়লেন। মুখে যুদ্ধজয়ের হাসি। যন্তরমন্তরে যেন বিশ্বকাপ জয়ের উন্মাদনা!
মাত্র ৭১ দিন আগে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের করা একটি মন্তব্য জন্ম দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র। মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই সেই ‘ককরোচ’রা ইনস্টাগ্রাম-এক্সের অনলাইন দুনিয়া থেকে নেমে এসেছিল বাস্তবের মাটিতে। আর তারপর ছাত্র-যুব আন্দোলন-অবস্থান-অনশন-সংসদ অভিযান, রাজ্যে রাজ্যে বিক্ষোভ—প্রবল চাপে অবশেষে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে মোদি সরকার। তাই এদিন শুধু দিল্লির যন্তরমন্তর নয়, দেশব্যাপী শুরু হয়ে গিয়েছে তারুণ্যের বিজয়োৎসব। চণ্ডীগড় থেকে পাটনা, মুম্বই থেকে কলকাতা সর্বত্র চলছে উদযাপন। যন্তরমন্তরের মঞ্চে কাটা হয়েছে কেক। কেন্দ্র আন্দোলনকারীদের অন্যান্য শর্তও মেনে নেওয়ায় ৩৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন অবিলম্বে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নিয়েছে ঠিকই। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের শরীরী ভাষায় স্পষ্ট যে, এই আগুন এখনই নিভছে না। ‘ককরোচ’দের সঙ্গে বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংকে তুলনায় অনেক নিষ্প্রভ মনে হয়েছে। ইস্তফার খবর এসে পৌঁছাতেই অভিজিৎকে কাঁধে তুলে ‘ককরোচ’রা যখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছেন, তখন দ্রুত কাঁধ থেকে নেমে মাইক্রোফোন হাতে তিনি ঘোষণা করলেন, ‘আমি হিরো হতে চাই না। কোনো একজনকে হিরো বানানোর কী ফল, তা দেশের মানুষ বুঝতে পারছেন।’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক সেরে ধর্নামঞ্চে ফিরে আন্দোলনকারীরা আবেদন করেছেন, প্রত্যেকে শান্তিপূর্ণভাবে যন্তরমন্তর ছেড়ে চলে যান। তারই মধ্যে নতুন আন্দোলনের বীজ বুনে দিয়ে গিয়েছেন অভিজিৎ দিপকে। বলেছেন, ‘ভাববেন না, ককরোচরা শেষ হয়ে গেল। সরকারও যেন এই ভুল না করে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না করে আমরা পথ চলা থামাব না।’ অর্থাৎ, মোদি সরকারের অস্বস্তি বাড়ছেই।