নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই: পুরনো ছন্দে যন্তরমন্তর। দীর্ঘ প্রায় ১ মাস পর স্বাভাবিক রূপ ফিরে পেল দিল্লির এই জনপ্রিয় চত্বর। গতকাল অবশেষে দেশের যুবশক্তির কাছে হার মানল মোদি সরকার। জয়ী হল ভারতের ছাত্র-যুবসমাজ। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডের জেরে আন্দোলন শুরু করেছিল সিজেপি দল। মূল দাবি ছিল একটাই, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ। গতকাল ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তাফা দেওয়ার পরেই, ককরোচ জনতা পার্টির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এরপর আলোচনায় বিজেপির সমস্ত দাবি পুরোপুরি মেনে নেওয়ার গ্যারান্টি দিয়েছে সরকার। বৈঠক শেষে জেপি নাড্ডা বলেন, ‘আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের জেরে আর কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হবে না। দিল্লি বা অন্য বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই বিক্ষোভ চলাকালীন যে সব এফআইআর দায়ের হয়েছে, সেগুলি প্রত্যাহার করা হবে। আর এদিন সিজেপির কথা মতো তাদের দাবি মেনে নেওয়ায় পরই তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে। সেই জেরে গতকাল রাত থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করে যন্তরমন্তর। পাশাপাশি আজ একটু অন্য চিত্র ধরা পড়ে সেখানে। দেখা যায় সরিয়ে ফেলা হচ্ছে শত শত ব্যারিকেড, বিক্ষোভস্থল খালি করতে দেখা গিয়েছে নিরাপত্তা কর্মীদের গত ২০ জুলাই আরশোলাদের সংসদ অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় যন্তর মন্তর। মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন সামরিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে তা শনিবার সিজেপি আন্দোলন প্রত্যাহার করতেই দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে ঘোষণা করা হয়, সমস্ত স্টেশনে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এবং সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই আবারও চালু করা হয়েছে ওই এলাকার ইন্টারনেট পরিষেবা।