নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কয়েকদিন আগে কালনা মহকুমা হাসপাতালের এক চিকিৎসকের দায়িত্ববোধ সকলকেই তাজ্জব বানিয়ে দিয়েছে। বর্ধমানের খোসবাগানের মহাজনটুলির একটি নার্সিংহোমে এক প্রসূতি তাঁর অধীনে ভর্তি ছিলেন। তিনি তারপর আর সময়ে আসেননি। নার্সিংহোমের নিরাপত্তারক্ষী এবং কর্মীরা প্রসূতির ডেলিভারি করান। সদ্যোজাত মারা যেতেই বিষয়টি সামনে আসে। কালনা মহকুমা হাসপাতালের ওই চিকিৎসক ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বর্ধমানের নার্সিংহোমে প্র্যাকটিস করেন কি না, তা আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন। কালনা মহকুমা হাসপাতাল থেকেও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে শুধু তিনি নন, আর কোন কোন চিকিৎসক ডিউটি ফাঁকি দিয়ে নার্সিংহোমে প্র্যাকটিস করছেন, স্বাস্থ্যদপ্তর সেই তালিকা তৈরি করছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের কয়েকটি ইসিজি সেন্টারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম না মানার অভিযোগে একটি ইসিজি সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে বারবার একাধিক ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু আগে আধিকারিকরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখাননি। কিন্তু এখন তিনি আর ‘ম্যানেজ’ করতে পারেননি। তাঁর ইসিজি সেন্টার কয়েকদিন আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খোসবাগানের আর এক প্রভাবশালীও কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে সেন্টার চালাতেন। তাঁকেও নোটিস করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা তাঁর ইসিজি সেন্টারে যান। তিনি প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারেননি। উল্টে আধিকারিকদের তিনি প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এযাত্রায় তিনিও রেহাই পাননি। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কয়েকটি ইসিজি সেন্টারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ হচ্ছে কি না, সেটাও দেখা হচ্ছে। নিয়ম না মানলে কোনও সেন্টারেরই লাইসেন্স রিনিউ করা হবে না। একই কারণে দু’দিন আগে জামালপুরের একটি নার্সিংহোম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেটির লাইসেন্স রিনিউ করা হয়নি।
এছাড়া, সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের ভূমিকাও স্ক্যানারে আনা হচ্ছে। আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, কালনা মহকুমা হাসপাতালের ওই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দু’টি নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সময় দিতে না পারলেও খাতায়-কলমে একাধিক প্রসূতিকে তিনি নিজের অধীনে ভর্তি করেন বলে অভিযোগ। সেই কারণেই নিরাপত্তারক্ষী বা নার্সিংহোমের কর্মীদের প্রসব করাতে হচ্ছে। এছাড়া, কয়েকজন অ্যানাসথেটিস্টও নজরে রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী ওটিতে অপারেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যানাসথেটিস্টদের থাকার কথা। কিন্তু অনেকেই সেই নিয়ম মানেন না বলে অভিযোগ। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, যাঁরা নিয়ম মানছেন না, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীর পরিবারের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। মহাজনটুলির ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। চিকিৎসকের গাফিলতি থাকলে তাঁকে ছাড়া হবে না।