সংবাদদাতা, ডোমকল: টোটোর মাথায় বাঁধা একজোড়া মাইক। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই মাইক বাঁধা সেই টোটোতে চলছে প্রচার। কিসের প্রচার? মূলত কোন ফার্মেসিতে বসছেন কোন ডাক্তার, কোথায় বসছেন হার্ট-বক্ষ-শিশু বিশেষজ্ঞ? কোন ক্লিনিকে বসবেন গাইনি সার্জেন— ডোমকল শহরজুড়ে এভাবেই তারস্বরে চলছে বেসরকারি ক্লিনিক ও নার্সিংহোমগুলির আত্মপ্রচার। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী টানতে টোটোগুলি ঘোরাফেরা করছে হাসপাতালের গেটের সামনে। দিনভর এইসব উচ্চৈঃস্বরে প্রচারে অতিষ্ঠ হচ্ছেন রোগী থেকে শুরু করে হাসপাতালের সামনের ব্যবসায়ীরাও। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের মূল গেটের সামনে রাস্তা যেখানে ‘নো হর্ন’ জোনের আওতায় পড়ে, সেখানে দিনে দুপুরে এত জোরে জোরে মাইক নিয়ে প্রচার চললেও তা নিয়ে কোনও ভ্রুক্ষেপই নেই পুলিস-প্রশাসনের।
প্রচারের অবশ্য নির্দিষ্ট কোনও সময় নেই। প্রতিদিনই দশ থেকে পনেরোটির বেশি টোটোতে চলে এইরকম প্রচার। বিভিন্ন ক্লিনিকের নিত্যদিনের রোগী টানার প্রতিযোগিতা হয়ে দাঁড়ায় আসলে শব্দদানবের দৌরাত্ম্য। সেই নিজের ঢাক নিজে বাজানোর প্রতিযোগিতায় প্রাণান্তকর অবস্থা হয় সকলের। টোটোগুলিতে কখনও একটি, কখনও বা দু’টি মাইক বেঁধে দিনভর চলে একই ঘ্যানঘ্যানানি প্রচার। আগে এই ধরনের মাইকিং করার জন্য প্রয়োজন পড়ত ঘোষকের। তবে এখন রেকর্ড করে নেওয়ার পর সেটাই বারবার বাজানো হয়।
হাসপাতালের সামনের ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়গনস্টিক সেন্টার, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, স্কুলের ভর্তিতে বিশেষ ছাড় সহ বিভিন্ন ধরনের প্রচারের তাণ্ডবে কান মাথা ভনভন করে। এছাড়াও জিরো ডাউন পেমেন্টে মোটরবাইক বিক্রির প্রচারও পিছিয়ে নেই। তবে তুলনামূলক ভাবে বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাইকিং সবার থেকে এগিয়ে। সারাদিন ধরে প্রত্যেকের কান ফাটানো শব্দে বিজ্ঞাপনি প্রচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন সকলেই। আশপাশের বহু মানুষের শব্দদূষণজনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। হাসপাতালের সামনের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ডাক্তারদের বিজ্ঞাপন শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেল। বারণ করলেও তারা সাউন্ডের মাত্রা কমায় না। এত জোরে শব্দ হয় যে, দোকানের খদ্দেরদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, সারাদিন টোটোতে করে একই বিজ্ঞাপন শুনতে শুনতে মেজাজ গরম হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু বললে অমনি ধমকানি চমকানি শুনতে হবে। এদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, শহরজুড়ে প্রতিদিন যে হারে মাইকিং করা হচ্ছে, তাতে অনেক সময় শব্দের মাত্রা নির্দিষ্ট ডেসিবেলের ওপরে চলে যায়। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এটা খুবই ক্ষতিকর। মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণে শ্রবণশক্তি লোপ সহ উচ্চ রক্তচাপ, মাথাধরা, খিটখিটে মেজাজ, বিরক্তি বোধ, অনিদ্রা ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা সহ নানা রকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। -নিজস্ব চিত্র