নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের রাতে তাঁর শুভানুধ্যায়ীদের উপর বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের হামলার অভিযোগের ঘটনায় এবার প্রশ্ন উঠল খোদ লালবাজারের ভূমিকাতেই। শুক্রবার রাতভর দফায় দফায় বচসা, তপ্ত বাক্য বিনিময় চলে। শনিবার সকাল হতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে যায় লালবাজারের অফিসাররা। পুলিশ কমিশনারের একটি পুরনো নির্দেশিকা সেঁটে দেওয়া হয় বাড়ির সামনে। একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকেও সেই নির্দেশিকা দেখানো হয় পুলিশের তরফে। তাতেই লুকিয়ে প্রশ্নের বীজ। নির্দেশিকায় স্পষ্ট লেখা, গোলমালের উৎসস্থলে ইতিমধ্যেই লাগু রয়েছে ১৬৩ ধারা। যার অর্থ, সেখানে পাঁচ বা তার বেশি সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে জমায়েত নিষিদ্ধ। তাও সেখানে কীভাবে জমায়েত হল? কীভাবে ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটল? কীভাবে দু’পক্ষের বচসা তুমুল আকার ধারণ করল? এতগুলি পুলিশি সক্রিয়তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। শনিবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু, খবর লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এদিন সকালে লালবাজারের অফিসাররা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার নির্দেশিকা নিয়ে ঘটনাস্থল হাজির হন। তখনও এলাকা থমথমে। পটুয়াপাড়ার রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ইটের টুকরো। সেই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের দেওয়া নির্দেশিকা অভাবনীয় তথ্য দিল। সিপির অর্ডার ইস্যু করা হয়েছিল, চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর। তাতে বলা হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের রাস্তা, বলরাম বোস ঘাট রোডের একাংশ, কালীঘাট ব্রিজ— এই গোটা চত্বরে ১৭ অক্টোবর থেকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা লাগু করা রয়েছে। সেই নির্দেশিকাতেই উল্লেখ রয়েছে, এই বিধি কার্যকর থাকবে মোট ২ মাস। আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬৩ ধারা লাগু থাকবে।
গত সরকারের আমলেও এই এলাকায় পাঁচজন বা তার বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তা কার্যকর রাখতে এই এলাকায় সাধারণ মানুষের চেয়ে পুলিশের আধিক্য বেশি থাকত। সরকার বদল হলেও, পাল্টায়নি পুলিশের নির্দেশিকা। ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনজীবী অর্ক নাগ ও বৈশ্বান্বর চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেন, কয়েকজন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে মামলা করুন। যাতে তাঁরা পদোন্নতি না পান। মমতার কথায়, ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করলে, তার বিরুদ্ধে সংবিধান ও আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পথ কিন্তু রয়েছে। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ ছিল না। বিজেপি কর্মী সমর্থকদের হামলায় তাঁর অনুগামীদের হাতের আঙুল ভেঙেছে। তাঁর বাড়িতে ইট বৃষ্টিও হয়। পোস্টারও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। প্রায় ২৫-৩০ মিনিট ধরে গোটা কর্মকাণ্ড চলে। সেই সময়ে ১৬৩ ধারা লাগু থাকা একটি অঞ্চলে কোথায় ছিল পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে কালীঘাট ও ভবানীপুর থানা। দেড় কিলোমিটারের মধ্যে আলিপুর থানা। ২ কিলোমিটারের মধ্যে টালিগঞ্জ থানা। তাও ঘটনাস্থলে পৌঁছতে বিলম্ব কেন? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পাশাপাশি,অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, হামলায় আক্রান্ত এক তৃণমূল সমর্থককেই পুলিশ প্রাথমিকভাবে আটক করে। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিজেপির দুই সমর্থক পুলিশকে চড় মারে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনাতেও কাউকে রাত পর্যন্ত আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি লালবাজার।



