নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘ফানুস বিক্রিতে বাধা নেই। তবে ফানুস ওড়াতে এবার লাগবে লাইসেন্স।’ জানিয়েছিলেন ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। তার পরেও রাজ্যজুড়ে চলে দেদার ফানুস বিক্রি। কিন্তু, লাইসেন্স মিলবে কোথা থেকে? সেই ছাড়পত্র জোগাড় করার কোনো কর্তৃপক্ষকেই খুঁজে পাওয়া গেল না। তার জেরে ছেদ পড়ল কলকাতার ঐতিহ্যে। গত ১০১ বছর ধরে ভূত চতুর্দশীতে ফানুস উড়িয়ে আসছে উত্তর কলকাতার দত্ত বাড়ি। তাদের ছাদেই ঘটে ঐতিহ্য ও পরম্পরার মেলবন্ধন। কিন্তু, রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা তথা ডিজির বক্তব্যের সঙ্গে প্রশাসনিক পরিকাঠামোর কোনো তালমিল না থাকায় ১০২তম বছরে এসে আঘাত লাগল সেই পরম্পরায়।
ফানুসের লাইসেন্স কে দেবে? কীভাবে মিলবে? তা নিয়ে ধোঁয়াশা-ধন্দ ছিল প্রথম থেকেই। সেই সুযোগে দেদার ব্যবসা করেছে ব্যবসায়ীরা। সঠিক তথ্য না জেনেই কেউ বলেছেন, পুলিশ ও দমকল দেবে লাইসেন্স। কেউ আবার ক্রেতাদের জানিয়েছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিই ফানুস ওড়ানোর ছাড়পত্র দেবেন। আদতে কেউ-ই জানেন না সঠিক তথ্য। ফলে ফাঁপড়ে পড়েন দত্ত বাড়ির সদস্য অরিন্দম দত্ত। তিনি জানিয়েছেন, গত ১ নভেম্বর লালবাজারে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা ও রাজ্য পুলিশের ডিজি (ফায়ার) অনুজ শর্মার কাছে ফানুস ওড়ানোর লাইসেন্স চেয়ে চিঠি দেন। পারিবারিক ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে ভূত চতুর্দশীর দিন ফানুস ওড়ানোর জন্য সরকারি নির্দেশমতো অনুমতি চান তিনি। কিন্তু, অনুমতি তো দূর অস্ত, সেই চিঠির কোনো উত্তরই আসেনি। ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টাকেও এবিষয়ে অবহিত করেন তাঁরা। তাতেও লাভ হয়নি। শেষমেশ ফানুস ওড়ানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় উত্তর কলকাতার এই পরিবার। ফলে এবছরের ভূত চতুর্দশীতে ফাঁকা থেকে গেল দত্ত বাড়ির ছাদ। অন্যদিকে, কালীপুজো ছাড়াও বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপনের জন্য ফানুস ওড়াতেন পি কে মল্লিক। তিনিও এবছর পেলেন না লাইসেন্স। ফাইল চিত্র



