তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: শিশু থেকে বয়স্ক প্রত্যেকেরই মুখরোচক খাবারের প্রতি আলাদা আকর্ষণ থাকে। তবে সেই খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর কিংবা গুণগতমান সঠিক আছে কি না, সেই প্রশ্নর উত্তর নেই প্রশাসনে কাছে। শিলিগুড়ির বিভিন্ন বাজারে প্যাকেটজাত নানারকম মুখরোচক খাবার বিক্রি হলেও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে তাতে ব্যাচ নম্বর, ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট কিংবা এক্সপায়ারি ডেট অমিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এসব প্যাকেটজাত খাবার আদৌ কতটা খাওয়ার উপযোগী। যদিও স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, তাদের টিম প্যাকেজাত খাবারেরও নমুনা সংগ্রহ করে গুণমান যাচাই করে। প্যাকেটের গায়ে ব্যাচ নম্বর সহ ক’দিন ব্যবহার করা যাবে তার তারিখ উল্লেখ না থাকলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন দার্জিলিংয়ের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ তুলসী প্রামাণিক।
সিএমওএইচ বলেন, আমাদের তরফে লাগাতার অভিযান চলে। কোথাও এমন অভিযোগ এলে দপ্তরের টিম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আমরা অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আমাদের এনফোর্সমেন্ট বিভাগ এ ধরনের সামগ্রী বাজারে বিক্রি হচ্ছে কি না সেই সম্পর্কে লাগাতার নজরদারি চালায়।
যদিও এ বিষয়ে বিভিন্ন শিল্পোদ্যোগীদের মধ্যেও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। তারা কার্যত মেনে নিয়েছেন সংগঠনের বাইরেও প্রচুর মানুষ প্রয়োজনীয় সরকারি নথিপত্র না নিয়ে এ ধরনের ব্যবসা চালাচ্ছে। তাদের উপর রাশ টানার ক্ষমতা একমাত্র প্রশাসনে রয়েছে। এ বিষয়ে নর্থ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুরজিৎ পাল বলেন, আমাদের সংগঠনের সঙ্গে যারা জড়িত তারা সমস্ত ধরনের সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে। সেক্ষেত্রে এই ধরনের অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে সংগঠনের বাইরে প্রচুর মানুষ নিজেদের বাড়িতেই নানারকম মুখরোচক খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে বিক্রি করছে। তাদের উপযুক্ত নথি নাও থাকতে পারে। এটা প্রশাসন নিশ্চই দেখবে।
শিলিগুড়ি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিবরেওয়াল বলেন, ফুলবাড়ি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সহ বিভিন্ন এলাকায় আমাদের সংগঠনের যারা রয়েছে তারা সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনেই এই ধরনের ব্যবসা করে। এক্ষেত্রে ব্যাচ নম্বর, ম্যানুফ্যাকচারিং ডেট, এক্সপায়ারি ডেট নিশ্চয়ই থাকে। এর বাইরে এই ধরনের কাজ যারা করে তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেবে। দুই সংগঠনেরই দাবি, কোনও খাদ্যসামগ্রী কেনার আগে ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে। প্যাকেট ভালোমতো দেখার পর জিনিস কেনা উচিত। নিজস্ব চিত্র।