Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেন্দ্রীয় ত্রাণ কবে,পাহাড়ে প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘দূত’ কেন্দ্রীয়মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সফরের ৭২ঘণ্টা পর শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ত্রাণ অমিল। কেন্দ্রীয় প্যাকেজ ঘোষণাও দূরঅস্ত।

কেন্দ্রীয় ত্রাণ কবে,পাহাড়ে প্রশ্ন
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘দূত’ কেন্দ্রীয়মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সফরের ৭২ঘণ্টা পর শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ত্রাণ অমিল। কেন্দ্রীয় প্যাকেজ ঘোষণাও দূরঅস্ত।এদিকে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা রাত জেগে ত্রাণের প্যাকেট তৈরি করছেন। পৌঁছে দিচ্ছেন দুগর্তদের কাছে। এই কাজের তদারকি করছেন পাহাড়ে জিটিএ’র চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপা আর সমতলে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব।

Advertisement

ছ’দিন আগে শনিবার ভয়াবহ বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হয় পাহাড় ও সমতল। যারমধ্যে দার্জিলিং পাহাড়ে ক্ষয়ক্ষতি বেশি।সেই ঘটনার ৪৮ঘণ্টা পর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে দিল্লি থেকে উড়ে এসেছিলেন মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি দু’দিন ধরে পাহাড়ের বিধ্বস্ত মিরিক, বিজনবাড়ি, সুখিয়াপোখরি প্রভৃতি এলাকা পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার তিনি দিল্লি ফিরে যান। আশা ছিল, এরপর কেন্দ্র কোনও সাহায্য ঘোষণা করতে পারে। 
মিরিক পুরসভার সহকারী প্রশাসক তথা বিজিপিএমের মিরিক মহকুমা সভাপতি সুভাষ প্রধান বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে বিধ্বস্ত এলকায় যান। দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন।কিন্তু এরপরেও পাহাড়  কেন্দ্রীয় সাহায্য পেল না। আমাদের একটাই প্রশ্ন কবে আসবে কেন্দ্রীয় ত্রাণ? একই প্রশ্ন পাহাড়বাসীরও। বিজেপির দার্জিলিং পার্বত্য সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি সঞ্জীব লামা অবশ্য বলেন, বিধ্বংসী ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে রাজ্য সরকার এখনও বিপর্যয় ঘোষণা করেনি। রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে নির্বিকার। সম্ভবত সেজন্যই কেন্দ্রীয় সরকার এখনও কোনও প্যাকেজ ঘোষণা করেনি। তাছাড়া আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি কেন্দ্রীয়মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিভিন্ন এলাকা দেখেছেন। তাঁর রিপোর্টের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলেই আশাবাদী। তবে এমপি রাজু বিস্তা এবং আমাদের দলের তরফে দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিলি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন পোড়াঝাড় গ্রামে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রাম ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার অধীনে। দুর্গতদের অভিযোগ, স্থানীয় বিধায়ক বিজেপির শিখা চট্টোপাধ্যায় এই গ্রামে আসেননি। বিজেপি বিধায়ক অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, তিনদিন ধরে ওই গ্রামে থেকে দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিলি করেছি। তৃণমূলের কর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্য সরকারের মিনি সচিবালয় উত্তরকন্যায় রাত জেগে ত্রাণের প্যাকেট তৈরি করছেন বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরের অফিসার ও কর্মীরা। প্যাকেটে চাল, ডাল, আলু, সরিষার তেল, পেঁয়াজ, দুধের প্যাকেট, মশলা, চিনি প্রভৃতি থাকছে। সেই প্যাকেটই যাচ্ছে পাহাড় ও সমতলে। দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল গাড়িতে ও হেঁটে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ত্রাণ বিলি করছেন। জিটিএ’র চিফ এগজিকিউটিভ পাহাড়ের রাস্তায় কখনও বাইকে, আবার কখনও গাড়িতে দুর্গদের কাছে পৌঁছচ্ছেন। সমতলে শিলিগুড়ি, ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, নাগরাকাটায় রাজ্য সরকারের ত্রাণ নিয়ে যান শিলিগুড়ির মেয়র। বিজিপিএমের মিরিক মহকুমা সভাপতি বলেন, দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ