Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উন্নয়নে টাকা খরচে ব্যর্থতা পিছনে কি কাটমানি দ্বন্দ্ব!

সময়ে শুরুই করা যাচ্ছে না প্রকল্পের কাজ। খরচ হচ্ছে না অর্থ। ব্যাহত হচ্ছে সামগ্রিক উন্নয়নমূলক কাজকর্ম।

উন্নয়নে টাকা খরচে ব্যর্থতা পিছনে কি কাটমানি দ্বন্দ্ব!
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: সময়ে শুরুই করা যাচ্ছে না প্রকল্পের কাজ। খরচ হচ্ছে না অর্থ। ব্যাহত হচ্ছে সামগ্রিক উন্নয়নমূলক কাজকর্ম। নতুন অর্থবর্ষ শেষ হল। অথচ এখনও প্রায় অর্ধেক টাকা খরচই করতে পারল না পুরুলিয়া জেলা পরিষদ। তবে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সামগ্রিক ফলাফলে সন্তোষজনক। অভিযোগ, টাকার ভাগ নিয়ে নেতাদের একাংশের ঝামেলার জেরেই ব্যাহত হচ্ছে টেন্ডার প্রক্রিয়া। এগচ্ছে না কাজ।

Advertisement

২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষের শুরুতে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের তহবিলে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় ৩৩ কোটি চার লক্ষ ৮৭হাজার টাকা পড়ে ছিল। পরবর্তীতে আরও প্রায় ১৭ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা পায় জেলা পরিষদ। মোট প্রাপ্য ৫০কোটি ৬৭লক্ষের মধ্যে গত ২১ মার্চ পর্যন্ত জেলা পরিষদ খরচ করতে পেরেছে ২৭ কোটি ৬৯লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, মোট প্রাপ্যের ৫৩.০৮ শতাংশ খরচ হয়েছে। বাকি টাকা এখনও পড়ে রয়েছে। টাকা পড়ে থাকার কারণ হিসেবে নেতাদের কোন্দলকেই দায়ী করছে প্রশাসনের একাংশও।
জেলা পরিষদের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যায় নেতাদের কোন্দলের কথা। জনপ্রতিনিধিদের একাংশের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন জেলা পরিষদের বর্ষীয়ান কয়েকজন নেতা। তাঁদের সঙ্গে ‘আঁতাত’ রয়েছে একশ্রেণির ঠিকাদারের। কাজের বিনিময়ে ঠিকাদারদের দিতে হয় মোটা টাকা কমিশন। কে কোন কাজ করবে, তা ‘ম্যাচ’ করিয়ে দেন করে গুটিকয়েক জনপ্রতিনিধিই। এতে কাজের মান খারাপও হয় বলে অভিযোগ। সপ্তাহখানেক আগেও জেলা পরিষদের ‘টেন্ডার ম্যাচ’ করানোর উদ্দেশ্যে ঠিকাদারদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, বৈঠকে ছিলেন জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হংসেশ্বর মাহাত এবং বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ জয়মল ভট্টাচার্য। 
তবে, ‘টেন্ডার ম্যাচ’ করানোর পরেও বহু প্রকল্পের কাজেই নেতাদের মনপসন্দ ঠিকাদারদের বাইরেও অনেকেই টেন্ডার ড্রপ করছেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের টেন্ডার তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। তবে, এই ঘটনা নতুন নয়। মাসের পর মাস ধরেই এভাবেই চলে আসছে বলে অভিযোগ। টেন্ডার তুলে না নিলে দেওয়া হয় না ওয়ার্ক অর্ডার। খরচ হয় না অর্থও! রাজ্যের রিপোর্টে পিছিয়েই থাকে পুরুলিয়া জেলা পরিষদ। এনিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত বলেন, ‘আগের তুলনায় অর্থ খরচে অনেক গতি এসেছে। আশা করছি এই সমস্যা আর থাকবে না।’
জেলা পরিষদের টেন্ডার কমিটির সদস্য অজিত বাউরির অভিযোগ, ‘টেন্ডার কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আমাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়। সঠিকভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না। জনগণের টাকা সময়ে শেষ করার ব্যাপারে বিভিন্ন বৈঠকে বহুবার সরব হয়েছি। কিন্তু, মুষ্টিমেয় কয়েকজন নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে জেলাকে ক্রমশই পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’
তবে, জেলা পরিষদ পিছিয়ে থাকলেও কাজের নিরিখে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির মোট প্রাপ্য ৩০কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে ইতিমধ্যেই। গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রেও মোট প্রাপ্য ১৪২ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকার মধ্যে ৭৬ শতাংশের বেশি টাকা খরচ সম্ভব হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, জেলা পরিষদের জন্য রাজ্যের কাছে জেলার সামগ্রিক রিপোর্ট নেগেটিভ হয়ে রয়েছে। এটা যত তাড়াতাড়ি জনপ্রতিনিধিরা বুঝবেন, ততই মঙ্গল!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ