পরামর্শে রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ প্রবুদ্ধ মুখোপাধ্যায়।
পরামর্শে রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ প্রবুদ্ধ মুখোপাধ্যায়।
শীত উঁকি দিলেই জ্বরের উপসর্গ সহ বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত রোগীর দেখা পাওয়া যায়। কারও শ্বাসযন্ত্রে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণের সমস্যা, আবার কারও হয় অ্যালার্জির মতো জটিলতা। শীতকালে বাতাসে ধূলিকণা ও ফুলের রেণুর আধিক্য হয়। শ্বাসযন্ত্রে সেগুলি প্রবেশ করলে অনেকেই অ্যালার্জিতে ভোগেন। বিশেষ করে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমার রোগীরা এই ঋতুতে খুব কষ্ট পান। শ্বাসকষ্ট হয়। অতএব কোনও রোগী নাক বন্ধ, গলা ব্যথা, খুসখুসে কাশির মতো উপসর্গ নিয়ে আসলে দেখতে হয় তার সঙ্গে জ্বরও আছে কি না। জ্বর থাকলে অসুখটি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণেই হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। ব্যাকটেরিয়া সংক্রান্ত সমস্যা বুঝলে চিকিত্সক অ্যান্টিবায়োটিকও প্রয়োগ করতে পারেন। অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে তাঁকে অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ দিলেই শারীরিক জটিলতা অনেকটাই কমে। এছাড়া ফুসফুসের সংক্রমণ হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে পারে। রোগীর শ্বাসকষ্ট ও জ্বরের তীব্রতাও বেশি হয়। ব্যথা হতে পারে বুকে। এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে ওষুধ।
বয়স্কদের জন্য সতর্কতা: প্রবীণ নাগরিকের ক্ষেত্রে সংক্রমণ ভিন্ন রূপ নিয়ে প্রকাশ পেতে পারে। তাঁদের ক্ষেত্রে জ্বর নাও আসতে পারে। বয়স্কদের শরীর ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। খিদে ও ওজন কমতে থাকেন। কথা বলাও বন্ধ করে দেন কেউ কেউ। মেজাজ খুব খিটখিটে হয়ে যায়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ধরনের উপসর্গ হতে পারে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের উপসর্গ। এমন লক্ষণে রোগীকে দ্রুত চিকিত্সকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
রোগ প্রতিরোধ: • ৬৫ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে ও ১০ বছরের কমবয়সিদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নিলে উপকারই হবে। • বয়স যাই হোক না কেন, কোনও ব্যক্তির ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, ক্রনিক লিভার ডিজিজ, সিওপিডি, অ্যাজমা বা ডায়াবেটিসের মতো অসুখ থাকলে অবশ্যই প্রতিবছর ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। • উপরিউক্ত দুই শ্রেণির লোককেই নিতে হবে নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিন দু’টি জীবনদায়ী প্রমাণিত হতে পারে।
মনে রাখুন: • নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, জগিং, সাইক্লিং-এর মতো এক্সারসাইজে শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণের আশঙ্কা কমে। কুয়াশা কাটলে তবেই মর্নিং ওয়াকে বেরন। • সাইনুসাইটিসের প্রকোপে ভুগলে প্রচলিত চিকিত্সার পাশাপাশি নেতি পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক