Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ক্যান্সার কী কী পূর্বাভাস দেয়?

ক্যান্সার নিয়ে বর্তমানে সচেতনতা বাড়লেও, এই রোগের উপসর্গ প্রসঙ্গে এখনও মানুষের মধ্যে তৈরি হয়নি সম্যক ধারণা।

ক্যান্সার কী কী পূর্বাভাস দেয়?
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৯
Prefer us on Google

ক্যান্সার নিয়ে বর্তমানে সচেতনতা বাড়লেও, এই রোগের উপসর্গ প্রসঙ্গে এখনও মানুষের মধ্যে তৈরি হয়নি সম্যক ধারণা। অথচ, উপসর্গগুলিকে আগেভাগে চিনতে পারলেই হারানো সম্ভব ক্যান্সারকেও! অনেকক্ষেত্রে ক্যান্সার ধরা পড়ে তৃতীয় বা চতুর্থ স্টেজে। তখনই চিকিৎসা শুরু করতে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। তবে ক্যান্সার এমন এক রোগ, যা ধীরে ধীরে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আগে থেকেই শরীরকে বেশ কিছু পূর্বাভাসও দেয়। সেগুলিকে খেয়াল না করে এড়িয়ে গেলেই বিপদে পড়তে হয়। এজন্য রোগীকে তো বটেই, সচেতন হতে হবে পরিবার ও পরিজনদেরও। সাধারণ হোক বা বিরল… ক্যান্সারের ক্ষেত্রে গ্রোথ অব সেল বা কোষের বিকাশ ঘটে। যে অঙ্গে এই কোষের বিকাশ ঘটছে, সেই অনুযায়ী লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। সেই লক্ষণগুলি চিনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বায়োপসি করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ক্যান্সার গোড়াতে ধরা পড়লে, তা নির্মূল করা সহজ।

Advertisement

নীচে কয়েকটি ক্যান্সার ও তাদের লক্ষণ প্রসঙ্গে আলোচনা করা হল: 

 ফুসফুসের ক্যান্সার: শুষ্ক কাশি কিছুতেই সারতে না চাওয়া। গলার স্বর বসে যাওয়া। কফের সঙ্গে রক্তপাত। এই জাতীয় উপসর্গ ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে দেখা যায়। 
 ওরাল ক্যান্সার: মুখের মধ্যে ঘা দীর্ঘদিন কমছে না। বহু মলম ব্যবহারের পরেও জ্বালা করছে বা কিছুতেই উপসম পাওয়া যাচ্ছে না। এগুলি ওরাল ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। যাঁরা তামাক জাতীয় পদার্থ সেবন করেন, এই ধরনের উপসর্গ দেখলে সতর্ক হতে হবে। 
 ব্রেন ক্যান্সার: হঠাৎ মাথা ব্যথা শুরু হওয়া। মাথা ভার হয়ে থাকা। মাইগ্রেন ভেবে অনেক সময়ই রোগীরা এই লক্ষণগুলিকে গুরুত্ব দেন না। তবে এই উপসর্গগুলি ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। এছাড়াও হাত, পা অবশ হয়ে যাওয়া, মাঝে মাঝে কাঁপুনি দেওয়া, দৃষ্টি শক্তির সমস্যা, কানে কম শোনা… এগুলিও ব্রেন ক্যান্সারের উপসর্গ। 
 ত্বকের ক্যান্সার: শরীরে কোনও জায়গায় ঘা হলে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকে তা কমে যায়। যদি রোগীর ব্লাড সুগার না থাকে সেক্ষেত্রে এটি ত্বকের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়াও তিল বা আঁচিলের হঠাৎ পরিবর্তন, দেহে কালশিটে দেখা দিলে সতর্ক হওয়া দরকার। 
 পাকস্থলীর ক্যান্সার: আচমকা ওজন কমছে? হজমে সমস্যা হচ্ছে? খিদে পাচ্ছে না? বা খেলেই পেট ফুলছে? এগুলি পাকস্থলীর ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এক্ষেত্রে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করে দেখা উচিত। 
 স্তন ক্যান্সার: স্তনের আকারের বা স্তনবৃন্তের রঙের হঠাৎ পরিবর্তন হলে মহিলারা অনেক সময়ই খেয়াল করেন না। তবে মাথায় রাখতে হবে এই ধরনের পরিবর্তনগুলি ব্রেস্ট ক্যান্সারের উপসর্গ হতে পারে। মনে রাখবেন, স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কিন্তু ব্যথা হয় না। তাই পরিবর্তন খেয়াল করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 
 জরায়ু মুখের ক্যান্সার: অনিয়মিত ঋতুস্রাব, জরায়ু থেকে রক্তপাত, দীর্ঘদিন পর আবার ঋতুস্রাব শুরু হওয়া, বেশি বয়সের মহিলাদের সহবাসের সময় রক্তপাত— এগুলি সারভাইক্যাল ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। 
 প্রস্টেট ক্যান্সার: মূলত বেশি বয়সের পুরুষদের এই ক্যান্সার হয়। তাই ৫০- এর ঊর্ধ্বে যে কোনও ব্যক্তির উচিত সুগার, প্রেশারের মতো প্রতি মাসে একবার প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা। তাহলেই এই ক্যান্সার হয়েছে কি না স্পষ্ট হয়। 
 রক্তের ক্যান্সার: হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়া, বারবার জ্বর, সংক্রমণ এই ক্যান্সারের উপসর্গ হতে পারে। 
নিজের শরীরকে বুঝতে শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে অবহেলা করা চলবে না। পাশাপশি তামাক জাতীয় পদার্থ সেবন না করা, নিয়মিত শরীরচর্চা, অতিরিক্ত জাঙ্কফুড, তেলে ভাজা এড়িয়ে চললে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ ওবেসিটিও ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। যতটা সম্ভব শাক সব্জি, প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়াই বাঞ্ছনীয়। পরিমিত ও স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রাই সুস্থতার চাবিকাঠি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ