নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ভোটার ছিল ২৩ লক্ষ ২৭ হাজার ১১২। ইনিউমারেশন ফর্ম জমা না পড়ায় খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে ৩ লক্ষ ৬ হাজার ১৪৬। অর্থাৎ খসড়া ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ ২১ হাজার। মাত্র আটটি ব্লক ও দু’টি পুর এলাকা নিয়ে গঠিত পশ্চিম বর্ধমান জেলা। ২০ লক্ষ ভোটারের জেলাতেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে ৪ লক্ষ ২৮ হাজার ভোটারকে। তার মধ্যে প্রায় দু’ লক্ষ শুনানি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু লক্ষ লক্ষ শুনানি হওয়ার পরও ভোটারদের ভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ শুনানি হলেও নিষ্পত্তি হচ্ছে হাতে গোনা। এখনও পর্যন্ত কত শুনানির নিষ্পত্তি হয়েছে তা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি নির্বাচন কমিশন। কমিশনের আমলারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতি জেলাতেই শুনানির নিষ্পত্তি খুবই কম হচ্ছে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় মাত্র কয়েক হাজার শুনানির নিস্পত্তি হয়েছে। তাই শুনানিতে অংশ নিলেই যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কেন এমন অবস্থা? জেলা প্রশাসন থেকে ব্লক প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, শুনানি নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব কে নেবে। নির্বাচন কমিশন বেশিরভাগ নির্দেশিকা দিচ্ছে হোয়াটাসঅ্যাপে। বার বার নির্দেশিকা বদল হচ্ছে। তাই আগ বাড়িয়ে অনেকেই শুনানির নিষ্পত্তির পথে হাটছেন না। এই পরিস্থিতিতে কী করে সময় মতো চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সম্ভব, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেই প্রশ্ন রয়েছে।
এর পাশাপাশি অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এখনও পঞ্চায়েত অফিসগুলির সামনে সন্দেহজনক ভোটারদের তালিকা টাঙানো হল না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও কি বেপরোয়া কমিশন। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশন বুথ ভিত্তিক বা পঞ্চায়েত ভিত্তিক কোনো তালিকা এখনও দেয়নি। সেই কারণেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা প্রকাশ করা যায়নি। শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল যাঁরা শুনানিতে অংশ নেবেন তাঁরা রিসিটও পাবেন। এখনও পর্যন্ত সেই ব্যবস্থা সর্বত্র চালু করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে শুনানি বন্ধ ছিল। আশা করা হচ্ছে শনিবার থেকে শুনানি কেন্দ্রে হাজির ভোটাররা নথি জমা করার পর রিসিট পাবেন।