প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ‘খাদ্যসাথী’ প্রকল্পে বিনামূল্যে চাল পান রাজ্যের বাসিন্দারা। সেই চালের গুণমান কেমন? নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য গ্রাহকরা নিয়মিত ও সঠিকভাবে পাচ্ছেন তো? সার্বিক রেশন পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকরা কি সন্তুষ্ট? মানুষের কাছ থেকে সরাসরি এসব প্রশ্নের উত্তর পেলে এবার পর্যায়ক্রমে রাজ্যের প্রতিটি রেশন দোকানের সোশ্যাল অডিট করতে চলেছে রাজ্য সরকার। এই প্রক্রিয়ায় রেশন দোকানে গিয়ে সরাসরি গ্রাহকদের থেকে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হবে। সামগ্রীর গুণমান, পরিমাণ ইত্যাদির পাশাপাশি রেশন দোকানের কর্মচারীদের ব্যবহার কেমন, দোকান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে কি না, নির্দিষ্ট সময় পরিষেবা মেলে কি না, এসএমএস পাচ্ছেন কি না—এসবও জেনে নেওয়া হবে গ্রাহকদের থেকে। কথা বলা হবে দোকান কর্তৃপক্ষ এবং কর্মীদের সঙ্গেও। জানতে চাওয়া হবে তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথাও। এই সমীক্ষার মাধ্যমে সমাজে এবং রাজ্যবাসীর মধ্যে রেশন ব্যবস্থার প্রভাবও যাচাই করবে রাজ্য সরকার। সমীক্ষার রিপোর্ট দেখে রেশন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার জন্য নবান্নের তরফে পদক্ষেপ গ্রহণ
করা হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সূত্রের খবর, রাজ্যের সোশ্যাল অডিট ইউনিটকে এই সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে মোট ৫,৫৯৩টি রেশন দোকানে এই সমীক্ষা চলবে। গ্রামীণ এলাকায় ৪,৫৭৬টি এবং পুরসভা এলাকায় ১,০১৭টি রেশন দোকান রয়েছে এই তালিকায়। গ্রামীণ এলাকায় সোশ্যাল অডিট ইউনিটের ঠিক করে দেওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে রেশন দোকানে যাবেন ‘ভিলেজ রিসোর্স পার্সনস’রা। শহর এলাকায় তাঁদের সমতুল্য কর্মীরাই এই কাজ করবেন। খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ জানিয়েছেন, রাজ্যের তরফে এই সামাজিক নিরীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ধাপে ধাপে রাজ্যের প্রতিটি রেশন দোকানেই এই সমীক্ষা হবে।
রেশন পরিষেবার গুণমান ঠিক রাখতে ডিজিটাল ই-পস রিসিপ্ট, গ্রাহকের বায়োমেট্রিক ছাপ, পরিমাণ সংক্রান্ত এসএমএস পরিষেবা, চাল সরবরাহের গাড়ির অনলাইন ট্র্যাকিংয়ের মতো একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য। তারপরও কেন এমন সোশ্যাল অডিটের দরকার পড়ল? রাজ্যের সোশ্যাল অডিট ইউনিটের ডাইরেক্টর বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া যে কোনও সংস্থার সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং কর্মক্ষমতা নিরীক্ষণ করে কাজের প্রভাব মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে গ্রাহক এবং দোকান কর্তৃপক্ষ, উভয়ের জন্য প্রশ্নমালা তৈরি করা হয়েছে। উত্তরগুলি লিপিবদ্ধ করে ইউনিটে পাঠাবেন ভিলেজ রিসোর্স পার্সনসরা। সেই তথ্য একত্রিত করে এবং বিশ্লেষণের পর রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে রাজ্য। প্রসঙ্গত, রাজ্যে ২১ হাজারের বেশি রেশন দোকানে আছে। তাই চারটি পর্যায়ে এই অডিট শেষ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের।