সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: শীতের এই মরশুমে পুরুলিয়া পর্যটকে ছয়লাপ। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি করেছে ট্রেন। কারণ, এমনিতেই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের ৮০ শতাংশ ট্রেনই সময় মতো চলে না। তার উপর সপ্তাহব্যাপী রোলিং ব্লক রয়েছে। বছরের প্রথম সপ্তাহ হলেও আদ্রা ডিভিশন রোলিং ব্লক নিয়েছে। যার জন্য আদ্রা ডিভিশনে ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়বে।
আজ, সোমবার থেকে আগামী ৪ জানুয়ারি রবিবার পর্যন্ত ব্লক নেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, টিআরডি, সিগন্যাল ও টেলি কমিউনিকেশনের বিভাগ যৌথভাবে কাজ করবে। পর্যটনের মরশুমেই রেলের রোলিং ব্লক নেওয়াকে খামখেয়ালিপনা বলে অভিহিত করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া জেলার মানুষ সহ পর্যটকরা হয়রান হচ্ছেন।ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসার। আদ্রা ডিভিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ৬৮০৪৫/৬৮০৪৬ (আসানসোল-আদ্রা) মেমু প্যাসেঞ্জার ৩০ ডিসেম্বর বাতিল রয়েছে। ৬৮০৫৩/৬৮০৫৪ (আদ্রা-বরাভূম) মেমু প্যাসেঞ্জার ৪ জানুয়ারি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ৬৮০৭৭/৬৮০৭৮ (আদ্রা-ভাগা) মেমু প্যাসেঞ্জার ৩০ ডিসেম্বর ও ৩ এবং ৪ জানুয়ারি চলবে না। ৬৮০৬১/৬৮০৬২ (আদ্রা-আসানসোল) মেমু প্যাসেঞ্জার ২৯ ডিসেম্বর ও ২ এবং ৪ জানুয়ারি বাতিল করা হয়েছে। এবং ৬৮০৭৯/৬৮০৮০ (ভোজুডি-চন্দ্রপুরা) মেমু প্যাসেঞ্জার ১ জানুয়ারি বাতিল করা হয়েছে।
পাশাপাশি কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ১৮০১৯/১৮০২০ (ঝাড়গ্রাম-ধানবাদ) দৈনিক এক্সপ্রেস ২৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর এবং ১, ২ ও ৪ জানুয়ারি বোকারো স্টিল সিটি পর্যন্ত চলাচল করবে। ওই দিনগুলিতে বোকারো-ধানবাদ রুটে পরিষেবা বাতিল থাকবে। ১৩৫০৩/১৩৫০৪ (বর্ধমান-হাতিয়া) মেমু প্যাসেঞ্জার ২৯ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি গোমো পর্যন্ত চলাচল করবে। ওই দিনগুলিতে গোমো-হাতিয়া রুটে পরিষেবা বাতিল থাকবে। ৬৮০৫৬/৬৮০৬০ (টাটা-আসানসোল-বরাভূম) মেমু প্যাসেঞ্জার ৩০ ডিসেম্বর আদ্রা পর্যন্ত চলাচল করবে। ওইদিন আদ্রা-আসানসোলের মধ্যে পরিষেবা বাতিল থাকবে। একইভাবে, ৬৩৫৯৪/৬৩৫৯৩ (আসানসোল-পুরুলিয়া) মেমু প্যাসেঞ্জার ৩০ ডিসেম্বর ও ৪ জানুয়ারি আদ্রা পর্যন্ত চলাচল করবে। আদ্রা-পুরুলিয়ার মধ্যে পরিষেবা বাতিল থাকবে। ৬৮০৫৫/৬৮০৫৬ (আসানসোল-টাটা) মেমু প্যাসেঞ্জার ৩১ ডিসেম্বর আদ্রা পর্যন্ত চলাচল করবে। আদ্রা থেকে টাটা রুটে পরিষেবা বাতিল থাকবে।
এছাড়া সপ্তাহব্যাপী কিছু ট্রেনকে দেরি করে চালানো হবে। যার মধ্যে ১৮০৩৬ (হাতিয়া-খড়গপুর) এক্সপ্রেস ৩০ ডিসেম্বর হাতিয়া থেকে নির্ধারিত সময়ের ২ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে। ১৮১৮৪ (বক্সার-টাটা) এক্সপ্রেস ৪ জানুয়ারি বক্সার থেকে এক ঘণ্টা এবং ৬৮০৮৮ (ধানবাদ-বাঁকুড়া ) মেমু প্যাসেঞ্জার ২৯ ডিসেম্বর ও ৩ জানুয়ারি ধানবাদ থেকে এক ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে। পাশাপাশি ১৮০৩৫ (খড়গপুর-হাতিয়া) এক্সপ্রেস ৪ জানুয়ারি খড়গপুর থেকে ১৫০ মিনিট দেরিতে ছাড়বে।
বর্ধমান, হাওড়া থেকে সাঁতুড়ির বড়ন্তি ঘুরতে আসা পর্যটকদের মধ্যে জয়দেব দাঁ, সুপর্ণা সরকার বলেন, আমাদের ট্রেনে সফর করতে ভালো লাগে। তাই একটি এক্সপ্রেস ধরে আসানসোল পর্যন্ত এসেছিলাম। আমাদের টার্গেট ছিল আসানসোল থেকে লোকাল ধরে মুরাডি স্টেশন আসব। কিন্তু ট্রেনের পরিষেবা ঠিক না থাকায় চার চাকা ভাড়া করে আসতে বাধ্য হয়েছি। এখানে এসে শুনেছি, লোকাল ট্রেন পরিষেবা ঠিক না থাকার জন্য পর্যটন শিল্প মার খাচ্ছে। আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম বিকাশ কুমার বলেন, ট্রেন চলাচলের বিষয়টি সদর দপ্তর নিয়ন্ত্রণ করে। যাত্রীদের অসুবিধা দূর করতে যতটা সম্ভব ট্রেন পরিষেবা সচল রাখা চেষ্টা হচ্ছে।