Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নামমাত্র আয়-বন্ধ ভাতাও, বিপাকে তাঁতিরা

প্রায় প্রতিবছর পুজোর আগে সংবাদ শিরোনামে আসে ফুলিয়া, বেগমপুর, রাজবলহাট এবং ধনেখালির তাঁতিদের দুর্দশার কথা। পাত্র তন্তুবায় জানলে বিয়েতে রাজি হয় না অনেক পাত্রীপক্ষ।

নামমাত্র আয়-বন্ধ ভাতাও, বিপাকে তাঁতিরা
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: প্রায় প্রতিবছর পুজোর আগে সংবাদ শিরোনামে আসে ফুলিয়া, বেগমপুর, রাজবলহাট এবং ধনেখালির তাঁতিদের দুর্দশার কথা। পাত্র তন্তুবায় জানলে বিয়েতে রাজি হয় না অনেক পাত্রীপক্ষ। কারণ তাঁতের শাড়ি তৈরি করতে শিল্পীদের পাশাপাশি সমান তালে খাটতে হয় পরিবারের মহিলা সদস্যদেরও। একই সমস্যায় জর্জরিত ধনেখালির তাঁতিরাও। অন্যদিকে, তাঁত সমবায়ের মাধ্যমে বার্ধক্য ভাতা প্রাপ্তি বিধানসভা ভোটের পর থেকেই বন্ধ। সমস্যায় দিন কাটাচ্ছেন ধনেখালির তাঁতশিল্পীরা।

Advertisement

তাঁতশিল্পীর রঙিন মুকুট আজ ফিকে হয়েছে। এই শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে নতুন প্রজন্ম। একসময় ধনেখালিতে চলার পথে রাস্তার দুধারের বাড়ি থেকে ভেসে আসত মাকুর খটখট আওয়াজ। ধনেখালি বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় তিনটি তাঁত সমবায় রয়েছে। দুটি ধনেখালি থানা এলাকায় এবং একটি গুড়াপে। খাতায়-কলমে সমবায়ের সদস্য থাকলেও বহুজন তাঁতের কাজ ছেড়ে বিকল্প আয়ের সন্ধান খুঁজছেন। 
ধনেখালির তাঁতি অনুপ ভড় বলেন, নকশা অনুযায়ী একটি শাড়ি তৈরি করতে দুদিনের বেশি সময় লাগে। পরিবারের সকলে মিলে কাজ করে শাড়িপিছু মজুরি মেলে ৩০০-৪০০ টাকা। পুরুষদের সঙ্গে পরিবারের মহিলাদেরও সমানতালে খাটতে হয় এই কাজে। ফলে পাত্র তাঁতশিল্পের কারিগর হলে পাত্রী দিতে রাজি হয় না বহু পরিবার। নতুন প্রজন্ম ছেড়েছে এই কাজ। আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যেতে পারেনি ধনেখালির তাঁত। ফলে বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে পিছিয়ে পড়ছে এই শিল্প। পুরানো যাঁরা আছেন তাঁদের কেউ ছোটো ব্যবসা করছেন, এমনকি সিকিউরিটি গার্ডের কাজ কিংবা রান্নার কাজ করছেন অন্যরা। বেশিরভাগ শিল্পীই পঞ্চাশোর্ধ্ব। নতুন প্রজন্ম এই শিল্পে না-আসায় একসময় হারিয়ে যেতে পারে হাতে তৈরি তাঁতের শাড়ি। সমবায়ের মাধ্যমে যে সমস্ত শিল্পী বার্ধক্য ভাতার আবেদন করেছিলেন তাঁদের ভাতা বন্ধ আছে। ধনেখালি বিধানসভা এলাকায় সমবায় রয়েছে তিনটি। দুটি ধনেখালিতে এবং একটি গুড়াপে। সোমসপুর সমবায়ের ৮৫ জন এই ভাতা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া আরও দুটি সমবায়ের সদস্যদের একই দুর্দশা। বছরপাঁচেক আগে পাঁচহাজার টাকা করে তাঁতঘর রক্ষণাবেক্ষণের টাকা আসার কথা হয়েছিল, তা অবশ্য কেউ পাননি। সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন, আর্থিক সহায়তা দিয়ে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে তাঁতশিল্পকে বাঁচান।
ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র এই বিষয়ে বলেন, ধনেখালির প্রায় ২০০ জন তাঁতির বার্ধক্য ভাতা বিধানসভা ভোটের পর থেকেই বন্ধ! সমস্যায় পড়া তাঁতশিল্পীরা আমার কাছে লিখিতভাবে এই কথা জানিয়েছেন। সুরাহার দাবিতে বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ