সংবাদদাতা, কালনা: দুর্গাপুজোর আর এক মাসও বাকি নেই। পুজোর বাজারে কেনাকাটা চলছে। চলতি মাসে কালনা ধাত্রীগ্রাম সরকারি তাঁতের হাটে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার শাড়ি বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ী ও আমজনতা এখানে কেনাকাটা করেছেন। এছাড়া সরকারি সংস্থা তন্তুজও কিছুদিন আগে ৩০ লক্ষ টাকার শাড়ি কিনেছে। ফলে খুশি তাঁতশিল্পীরা। তাঁরা মনে করছেন পুজো যত এগিয়ে আসবে বিক্রি আরও বাড়বে।
এখন কালনা মহকুমার ধাত্রীগ্রাম ও সমুদ্রগড় এলাকায় তাঁতিদের ব্যস্ততা চরমে। হ্যান্ডলুম ও র্যাপিয়ার মেশিনের আওয়াজে সরগরম গোটা এলাকা। এক দশক আগে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল তাঁতশিল্প। রাজ্যে পালা বদলের পর তাঁতশিল্পকে বাঁচাতে কালনা মহকুমার ধাত্রীগ্রাম ও নাদনঘাট থানার শ্রীরামপুরে সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠে তাঁত কাপড়ের হাট। যেখানে তাঁতশিল্পীরা তাঁদের তৈরি কাপড় ও হাটে বিক্রির সুযোগ পান। এছাড়াও সরকারি সংস্থা তন্তুজ পাশে দাঁড়ায়। ক্যাম্প করে সরাসরি তাঁতিদের কাছ থেকে শাড়ি কেনা শুরু করে। এবছর তাঁতিদের কাছ থেকে সরাসরি ও ধাত্রীগ্রাম ও শ্রীরামপুর তাঁতের হাট থেকে ৩০ লক্ষ টাকার শাড়ি কিনেছে তন্তুজ।
একদিকে যেমন তাঁতশিল্পের উন্নতি, অন্যদিকে ওই এলাকায় রাস্তাঘাট, পানীয় জল বিদ্যুৎ প্রভৃতির উন্নতি হয়েছে। তাঁতিদের জন্য বিনামুল্যে তাঁত ও তাঁতের সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। তাঁতিদের ক্লাস্টারের মাধ্যমে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁতিদের জন্য সুতোর ব্যাঙ্কও চালু করা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তাঁতশিল্প।
পুজোর আর এক মাসও বাকি নেই। পুজোর বাজারের পারদ ক্রমশ চড়ছে। চলতি আগস্ট মাসে ধাত্রীগ্রাম তাঁত কাপড়ের হাটে তাঁতিরা সরাসরি খুচর ও পাইকারি শাড়ি বিক্রি করেছেন ২৯ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকার। পুজো যত কাছে আসবে ততই বিক্রিবাটা বাড়বে বলেই মনে করছেন তাঁতশিল্পীরা।
তাঁতশিল্পী চরণকুমার বসাক, অমরনাথ দেবনাথ বলেন, এবার কম দামের শাড়ির থেকে দামী শাড়ির চাহিদা বেশি। হাটে হ্যান্ডলুমের তৈরি জামদানি, তসর, টাঙ্গাইল দামী শাড়ির চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি তাঁতিদের হাতে তৈরি সুতির চুড়িদার পিস ও ওড়নার চাহিদা বাড়ছে। এলাকায় হ্যান্ডলুম ও র্যাপিয়ারে অসমের মেখলা শাড়ি তৈরি হচ্ছে। তবে, বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে শাড়ি ঢুকছে। বাংলাদেশের শাড়ির দাম কম। গুনগত মান খারাপ হলেও চটকদারি থাকায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। তবে বাংলার হাতে তৈরি শাড়ির কদর আজও রয়েছে।
কালনা হ্যান্ডলুম আধিকারিক রণজিৎ মাইতি বলেন, হাটে পুজোর কেনাকাটা শুরু হয়েছে। ধাত্রীগ্রামে সপ্তাহে বুধ ও শনিবার হাট বসছে। বিক্রি ক্রমশ বাড়ছে। আশা করা যায়, মহালয়া পর্যন্ত হাটের দিনগুলিতে আরও বিক্রি বাড়বে।