নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: দারুণ ফিনিশিং। দামো কম। এক নজরে দেখে মনে হবে মুঙ্গের মেড! মুর্শিদাবাদের ডোমকলে তৈরি হওয়া সেইসব আগ্নেয়াস্ত্র পাচার হতো বাংলাদেশে। ওপার বাংলার চাহিদা মেটাতেই সম্ভবত সীমান্ত লাগোয়া গ্রামেই তৈরি করা হয়েছিল অস্ত্রের কারখানা। বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিস।
ধৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিস জানতে পেরেছে, ওই কারখানা থেকেই সস্তায় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ডেলিভারি করা হতো সীমান্তের ওপারে। স্থানীয় যুবকদের ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সীমান্তের ওপার থেকে পাইপ গান এবং ওয়ান শর্টারের অর্ডার মিলত বেশি। দু’ সপ্তাহ আগে মুর্শিদাবাদ পুলিসের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ ও ডোমকল থানার যৌথ অভিযানে ওই আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার হদিশ পায় পুলিস। ডোমকলের ঘোড়ামারা অঞ্চলের নিশ্চিন্দপুরের একটি বসত বাড়ির নীচতলার পুরো অংশটাকে অস্ত্র কারখানায় পরিণত করেছিল সিরাজ মণ্ডল। তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিস। উদ্ধার হয়েছে একাধিক অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির বিপুল সামগ্রী। এছাড়া অভিযুক্তের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকার জাল নোটও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। উদ্ধারের তালিকায় রয়েছে একটি আধুনিক রাইফেল ও তিন রাউন্ড থ্রি-নট-থ্রি গুলি, চারটি পাইগান, ন’ রাউন্ড গুলি, ১২টি অসমাপ্ত পাইপগান, একটি খালি কার্টিজ, দু’টি হাইড্রোলিক পাইপ, পাঁচটি সাধারণ পাইপ, একটি ড্রিল মেশিন, কাটিং মেশিন, একটি এয়ার ব্লোয়ার, দু’টি বন্দুক তৈরির ডাইস, ধাতব শীট একটি, একটি বড় ও একটি ছোট গোলা বারুদ, হ্যাসকো ব্লেড ২টি, প্লাস একটি, একটি হাতুড়ি-সহ অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত অন্যান্য ছোট লোহার তৈরি সরঞ্জাম প্রভৃতি।
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিস একাধিক তথ্য পেয়েছে। এই কারবারের সঙ্গে আরও তিনজন জড়িত রয়েছে বলে পুলিসকে জানিয়েছে ধৃত ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকে তারা অন্যত্র গা ঢাকা দিয়েছে। পুলিস এখনও তাদের খোঁজে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। ডোমকল থানার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, অস্ত্র কারখানার সঙ্গে যুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে আমরা যে সমস্ত তথ্য পেয়েছি তার ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে আমরা তল্লাশি করছি। ওই কারখানায় তৈরি হওয়া অস্ত্র সীমান্তের ওপারেও পাচার করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর কোথায় কোথায় এই অস্ত্র ডেলিভারি দেওয়া হতো এবং কাদের কাছে এই অস্ত্র পৌঁছেছে আমরা সেগুলিও খতিয়ে দেখছি। গ্রেপ্তার হওয়া অস্ত্র কারবারির কাছ থেকে যে জালনোট উদ্ধার হয়, সে বিষয়ে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, অস্ত্র কেনার জন্য ভারতীয় নোটের পাশাপশি, জালনোটেরও আদান প্রদান হতো।
খড়গ্রাম থেকে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র: একটি পুরনো মামলায় ধৃতকে জেরা করে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল খড়গ্রাম থানার পুলিস। মঙ্গলবার রাতের ওই ঘটনা স্থানীয় ভাটকান্দা গ্রামের। এদিন রাতে পুলিস ধৃতের বাড়ির কাছাকাছি খড়ের গাদা থেকে একটি ১২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের ওয়ানশটার, এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিনমাস আগে একটি বিয়ের বাজনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও বোমাবাজি ঘটে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার ওই গ্রামের মোজাম্মেল হক নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর পাঁচদিনের পুলিস হেফাজতে নিয়ে ধৃতের জিজ্ঞাসাবাদ চালান হয়।জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে এদিন রাতে পুলিস ধৃতের দেখান জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বুধবার ধৃতকে ফের কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।