Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাদ্দাম খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার শ্বাসনালী কাটার পর মাথায় আঘাত

ভাশুরপোকে খুনের অভিযোগে কাকিমা মৌমিতা হাসানের গ্রেপ্তারির ১০ দিনের মাথায় ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিস।

সাদ্দাম খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার শ্বাসনালী কাটার পর মাথায় আঘাত
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ ও সংবাদদাতা তপন: ভাশুরপোকে খুনের অভিযোগে কাকিমা মৌমিতা হাসানের গ্রেপ্তারির ১০ দিনের মাথায় ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিস। 

Advertisement

দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের শিহুর গ্রামে সোমবার মৌমিতার বাপের বাড়ি থেকে একে একে উদ্ধার হয়েছে সাদ্দামকে খুনের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র। এদিন প্রথমে নির্মীয়মাণ বিল্ডিংয়ের পাশে মাটির ঘর থেকে একটি শিল ও নোড়া উদ্ধার করে পুলিস। এরপর রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হয় একটি ধারালো লোহার চাকু। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই চাকু দিয়ে সাদ্দামের গলার নলি কাটেন মৌমিতা। এরপর শিলনোড়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। মালদহের পুলিস সুপার প্রদীপ কুমার যাদব বলেন, এদিন ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার পর সাদ্দাম খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া নৃশংস খুনের ঘটনাগুলির মধ্যে সাদ্দাম হত্যা মামলা অন্যতম। ইংলিশবাজার এবং তপন থানার পুলিস যৌথভাবে সোমবার অভিযুক্ত মৌমিতা ও তাঁর স্বামী রহমান নাদাপকে সঙ্গে নিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে।
এদিন ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় জানা গিয়েছে, ১৮ মে সাদ্দামকে ফোন করে শিহুর গ্রামে বাবার বাড়িতে ডেকে পাঠান মৌমিতা। সাদ্দাম ইংলিশবাজার থেকে স্কুটার চালিয়ে সেখানে পৌঁছন। বাড়ির বাইরেই স্কুটার রেখে মৌমিতার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেই সময় মৌমিতার বাপের বাড়িতে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্বামী রহমান।  সাদ্দামের যাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ না হয়, সেজন্য স্বামীকে বাড়ির মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে বলেছিলেন মৌমিতা। গল্প করতে করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে সাদ্দামের শ্বাসনালী কেটে দেন মৌমিতা। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে শিল, নোড়া দিয়ে সাদ্দামের মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর প্রমাণ লোপাট করতে শিল, নোড়া দিয়ে সাদ্দামের এবং নিজের মোবাইল ভেঙে দেন মৌমিতা।
ঘটনার পর কয়েকদিন এড়িয়ে চললেও এদিন নৃশংস খুনের পুনর্নির্মাণের সময় সেখানে জড়ো হয়েছিলেন গ্রামের বাসিন্দারা। স্থানীয় চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রাহুল সরকার বলেন, পুলিস আমাকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠিয়েছিল। খুনে ব্যবহৃত দুটি অস্ত্র, একটি শিল, নোড়া ও কাটারির মতো ধারালো একটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা খাকছার সরকার বলেন, পুলিস আমাদের কয়েকজনকে ডেকেছিল। দেখলাম ছাদের নীচে দেওয়ালের পাশে যেখানে মৃতদেহ লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেখান থেকে পাথর, বালি সহ বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ