


তেল আভিভ: ইজরায়েলি সেনার লাগাতার হামলায় গাজা কার্যত মৃত্যুপুরী। ধ্বংসস্তূপে পরিণত এই ভূখণ্ডে এখন শুধুই হাহাকার। এরইমধ্যে কোনওক্রমে টিকে থাকা হাতেগোনা কিছু ঘরবাড়িতেও আছড়ে পড়ছে ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিটি পদক্ষেপে সেখানে মৃত্যুর হাতছানি। এই পরিস্থিতিতেই প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই খবর সংগ্রহ করছেন সাংবাদিকরা। যেমন ইব্রাহিম কান্নান। ক্যামেরা হাতে ধ্বংসের ছবি তুলে চলেছেন তিনি। আর এই কাজের মধ্যেই ইজরায়েলি হামলায় চোখের সামনে বন্ধু ও সহকর্মীদের মৃত্যু দেখেছেন ইব্রাহিম। সেই ভয়াবহ দৃশ্য এখনও তাড়া করে বেড়ায় তাঁকে। কিন্তু নিজের কাজে অবিচল ইব্রাহিম। সেদিনের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে। ইব্রাহিম জানান, ‘চোখের সামনে পাঁচজন সহকর্মীদের মৃত্যু দেখেছি। তখন ক্যামেরা চালু ছিল। কেউ যেন এভাবে কষ্ট না পায়। এই দুঃখ সহ্য করা যায় না। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছি।’ ইব্রাহিম একা নন, ইজরায়েলি হামলার পর থেকে এভাবেই গাজায় খবর সংগ্রহ করে চলেছেন সাংবাদিকরা। মৃত্যুর আশঙ্কা তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তথ্য বলছে, গাজায় ইজরায়েলি সেনার হামলায় এখন পর্যন্ত ৯৯৫ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে ট্রাম্পের উদ্যোগে শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার আগেই ফের হামাসকে হুঁশিয়ারি দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রবিবার তিনি জানান, যে কোনও উপায় হামাসকে নিরস্ত্র করবে ইজরায়েল। সেটা কূটনৈতিক পদ্ধতিতে হতে পারে। না হলে সামরিক শক্তির জোরে। একইসঙ্গে নেতানিয়াহুর সংযোজন, এখনই গাজা ভূখণ্ড থেকে সেনা সরাবে না ইজরায়েল।
হামাস-ইজরায়েল যুদ্ধ বন্ধে তৎপরতা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দেওয়া ২০টি শর্তের মধ্যে শুক্রবার বেশ কয়েকটি মেনে নেওয়ার কথা জানায় হামাস। সেই সূত্রে নেতানিয়াহুর দেশকে হামলা বন্ধ করতে বলেন ট্রাম্প। তাতে অবশ্য কান দিতে নারাজ ইজরায়েলি সেনা। শনিবারও ফের গাজায় হামলা চালায় তারা। এই আবহে আজ মিশরে আলোচনায় বসতে চলেছে দু’পক্ষ। এরইমধ্যে রবিবার ফের হুঙ্কার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন, ‘গাজা ভূখণ্ডের বেশকিছু অংশ এখনও ইজরায়েলি সেনার দখলে থাকবে। পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে। সেটা ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে কূটনৈতিকভাবে হতে পারে। না হলে আমরা সেনাকে ব্যবহার করব।’