নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাংলায় ১০০ দিনের কাজ বন্ধ। বছরের পর বছর ধরে নানা টালবাহানা করে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা চলছে। এখন এই প্রকল্প চালুর জন্য আবার নানা শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। এ নিয়ে বৃস্পতিবার কৃষ্ণনগরের সভা থেকে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ভিক্ষা আমরা চাই না।’
১০০ দিনের কাজের বিকল্প হিসেবে রাজ্য সরকারের কর্মশ্রী প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে এমনিতেই গড়ে ৭০ দিনের কাজ হয়েছে। এরপর তা আরও ৫ থেকে ১০ দিন বাড়ানোর আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কর্মশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে ৭৮ লক্ষ ৩১ হাজার জব হোল্ডারকে কাজ দিয়েছি। ২০ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা খরচ করে ১০৪.৫৮ লক্ষ কর্মদিবস তৈরি করেছি।’
১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে বাংলা ভালো কাজ করেও প্রকল্পের টাকা আটকে রাখার জন্য মোদি সরকারকে আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘যে ভালো কাজ করে সে পাবে শূন্য। আর ডবল ইঞ্জিন সরকার হবে কোটি কোটি টাকায় পূর্ণ। হাইকোর্টের নির্দেশ পেয়েও কেন্দ্রীয় সরকার ছ’মাস ঘুমিয়ে ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পেয়েও কাজ করেনি।’
উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় চাপে পড়ে প্রকল্পের কাজ চালু করতে সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু, দু’পাতার চিঠিতে ৪৪ দফা শর্ত চাপিয়েছে দিল্লি। কোচবিহারের জনসভা থেকে আগেই কাগজ ছিঁড়ে তার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকেও তিনি বলেন, ‘হঠাৎ একটা চিঠি পাঠিয়েছে। তাতে অনেক শর্ত দিয়েছে। মাঝে একটাই মাস জানুয়ারি। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঘোষণা হবে। তার মধ্যে বলছে প্ল্যানিং তৈরি করতে। একটা গ্রামসভায় ১০ জনের বেশি কাজ পাবে না। টেন্ডার করতে বলেছে। একটা টেন্ডার করতেই তিন মাস চলে যায়। মার্চ মাসে অর্থ বছর শেষ হয়ে যায়। আমাদের সঙ্গে চালাকি করা হচ্ছে।’
তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর যখন দাওনি, তোমাদের ভিক্ষা আমরা চাই না। আমরা ১০০ দিনের জায়গায় ৭৫ দিনের কাজ করেছি। ১০০ দিনের সময় ৩০-৪০ দিনের বেশি কাজ হতো না। কর্মশ্রী প্রকল্প গড়ে ৭০ দিনের কাজ হয়ে গিয়েছে। আরও ৫ থেকে ১০ দিনের কাজ আমরা করব।’