ওয়াশিংটন: ‘হঠকারী’ অভিবাসন নীতি থেকে সরকারি তহবিল নিয়ে ‘দাদাগিরি’—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছেন আমেরিকানরাই। এবার তার রেশ আছড়ে পড়ল রাজপথে। লক্ষ লক্ষ মার্কিন নাগরিক অংশ নিলেন ‘নো কিং’ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট নিজেকে রাজা মনে করছেন। আমরা রাজতন্ত্র চাই না। ট্রাম্প জমানায় সরকার স্বৈরতন্ত্রের দিকে এগিয়ে চলেছে। শনিবার রাজধানী ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক সিটির টাইমস স্কোয়ার, বস্টন, আটলান্টা, শিকাগো, লস এঞ্জেলস সহ বিভিন্ন শহর-প্রদেশে ‘বিদ্রোহে’র আগুন ছড়িয়ে পড়ে। যদিও জনরোষকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। কটাক্ষ ছুড়েছেন প্রেসিডেন্টও। সপ্তাহান্ত কাটাতে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোর বিলাসবহুল এস্টেটে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলছেন, ‘ওরা (আন্দোলনকারীরা) আমাকে রাজা বলে উল্লেখ করছে। কিন্তু, আমি রাজা নই।’ পরে ‘নো কিং’ কর্মসূচিকে খোঁচা দিয়ে সম্রাটের মুকুট পরা এআই-ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন তিনি।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, দ্বিতীয়বার মার্কিন মসনদে বসার পর থেকেই একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। বদল এনেছেন অভিবাসন নীতিতে। মোটা অঙ্কের মূল্য চাপিয়েছেন এইচ-১বি ভিসার উপর। এর ফলে বেজায় চটেছে বিদেশি কর্মীদের উপর নির্ভরশীল মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য সংস্থাগুলি। ভারতের মতো ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রের উপরও বিপুল শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। তাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জিনিসপত্রের দামও বেড়েছে। তার উপর তহবিল ব্যবহার নিয়ে ট্রাম্পের তুঘলকি পদক্ষেপে ‘শাটডাউন’ চলছে মার্কিন মুলুকে। অভিযোগ, অত্যন্ত জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত দপ্তরে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ। বেতন ছাড়াই বহু কর্মীকে কাজ করতে হচ্ছে। এমনই একের পর এক সিদ্ধান্তে জনরোষ তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটনের কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন মেরিন কমান্ডো তথা দু’দশক সিআইএতে কাজ করা শন হাওয়ার্ড। বলেন, ‘গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে আমেরিকার সরকার এভাবে চলতে পারে না।’ আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছিলেন চার সন্তানের মা জেসিকা ইয়োদার। বলেন, ‘ট্রাম্প সরকারের শাসনে আমার চেনা আমেরিকা বদলে গিয়েছে। এত মানুষকে পথে নামতে দেখে আশ্বস্ত হচ্ছি।’
আয়োজকদের দাবি, আমেরিকাজুড়ে ২ হাজার ৬০০-র বেশি প্রতিবাদ সভা-মিছিল হয়েছে। প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ শামিল হয়েছেন। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এই নিয়ে তিনটি গণ-বিক্ষোভ হল। কিন্তু, এবারের পরিসর বেশি ছিল। মার্কিন নাগরিকদের এই ‘বিদ্রোহে’ ট্রাম্পের ঘুম কি ভাঙবে?