Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপ ও মায়াপুরে জলযন্ত্রণা চরমে, স্কুলগুলিতে শিবিরের প্রস্তুতি

নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে ভাগীরথী আর জলঙ্গির জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। তার জেরে জল যন্ত্রণার মধ্যে পড়েছে নবদ্বীপ ও মায়াপুর।

নবদ্বীপ ও মায়াপুরে জলযন্ত্রণা চরমে, স্কুলগুলিতে শিবিরের প্রস্তুতি
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে ভাগীরথী আর জলঙ্গির জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। তার জেরে জল যন্ত্রণার মধ্যে পড়েছে নবদ্বীপ ও মায়াপুর।  ফলে নবদ্বীপ ও মায়াপুর এই দুই তীর্থক্ষেত্র বিপদের মুখে। এই দুই শহরের বৃষ্টি ও নিকাশি নালার জল নদী টানতে পারায় উপচে পড়ছে। ফলে বেশকিছু এলাকা জলবন্দি হয়ে পড়েছে। নবদ্বীপ পুরসভার নদী তীরবর্তী ওয়ার্ডগুলিতে এই মুহূর্তে ভাগীরথীর জল না ঢুকলেও পুরসভার বেশ কিছু  ওয়ার্ড  বৃষ্টির জলে জলমগ্ন। কারণ নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় শহরের জমা জল নদীতে গিয়ে পড়ছে না। আর এতেই বিপন্ন কয়েক’শো পরিবার। 

Advertisement

ইতিমধ্যে নবদ্বীপ পুরসভার পক্ষ থেকে জলবন্দি এলাকার বাসিন্দাদের  নিরাপদ আশ্রয়ে সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মায়াপুর ট্যাকের ঘাট যাওয়ার রাস্তার বেশকিছু এলাকা জলঙ্গির জলে জলমগ্ন। নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, এখন নদীতে জলস্ফীতি অত্যন্ত বেশি। এনিয়ে আমরা চিন্তিত। আবার শোনা যাচ্ছে, নিম্নচাপ হতে পারে। পরিস্থিতি খারাপ হলে সবাইকেই নিরাপদ স্থানে সরানো হবে। পাশাপাশি ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হবে। 
বুধবার সকালে দেখা যায়, পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রানিরচরা ছাড়া গঙ্গার ধারের নিচু অংশ ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলবাগানের একটা বিরাট এলাকা, মণিপুরের একটা অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। প্রাচীন মায়াপুরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিচু এলাকা ষষ্ঠ লেন, শিবচন্দ্র সিংহরায় রোডের টাওয়ার মাঠের কিছু এলাকায় বৃষ্টির জল জমে রয়েছে। 
ফুলবাগান পচাপুঁটি এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধা যোগমায়া দাস বলেন, প্রায় এক মাস ধরে জলবন্দি হয়ে রয়েছি। জল বাড়লে বাড়িঘর ছেড়ে কাছের মঠে উঠতে হবে। ফুলবাগানের বাসিন্দা গৃহবধূ মলিনা গুহ বলেন,  বর্ষার বৃষ্টির জল ঘরের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। সবসময় চৌকির উপরে থাকতে হচ্ছে। তারপরে রয়েছে বিষধর সাপের উৎপাত। 
নবদ্বীপ পুরসভার ১৮ নম্বর রোডে কাউন্সিলার আশিস চক্রবর্তী বলেন, এই ওয়ার্ডের ফুলবাগানের পচাপুঁটি এলাকা থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এখান দিয়েই দেয়ারাপাড়া বাঁশবাগান হয়ে যে কালভার্ট আছে যেখানে স্লুইসগেট দিয়ে জল ভাগীরথীতে গিয়ে পড়ে। প্রতিবছর বর্ষাতেই এই এলাকার প্রায় ৫০টি পরিবারকে এক থেকে দেড় মাস এই জল যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। এই এলাকা দিয়ে নিকাশির জল ভাগীরথীতে গিয়ে পড়ে। কিন্তু এখন ভাগীরথীর জল যাতে শহরে ঢুকে না পড়ে সেজন্য স্লুইসগেট বন্ধ রাখা হয়েছে।   
সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাগীরথীর বিপদ সীমা হল ৮.৪৪ মিটার। আর চরম বিপদসীমা ৯.০৫ মিটার। বুধবার দুপুরে ভাগীরথীর জলস্তর ছিল ৮.৮২ মিটার। তবে প্রতিদিন যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে তাতে ভাগীরথীর জল আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ