সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: অল্প বৃষ্টিতেই বাবলারির রেল আন্ডারপাসে জল জমে চরম সমস্যার সম্মুখীন হন নদীয়া ও পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার কয়েকশো মানুষ। নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম রেলের এই আন্ডারপাস। একটু বৃষ্টি হলেই এক হাঁটুর ওপর জল জমে যায় এই আন্ডারপাসে। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে ব্যস্ত রেল আধিকারিকের উত্তর মেলে না। রেলের আন্ডারপাসের দেওয়ালে লেখা রয়েছে ফোন নম্বর। যে নম্বরে ফোন করলে জল জমার বেশ কয়েক ঘণ্টা পরে জল পাম্প করে আন্ডারপাসের বাইরে ফেলার ব্যবস্থা করে রেল। অনেক ক্ষেত্রে ফোন করলেও দেখা মেলে না কোনও রেলকর্মীর। দীর্ঘ সময় জল জমে থাকে। আন্ডারপাসের দেওয়ালে সতর্কতা হিসেবে জমে থাকা জলের উচ্চতা পরিমাপের জন্য লাল দাগ দেওয়া আছে। তাতে উল্লেখ রয়েছে, এই দাগ স্পর্শ করলে সাবওয়ে ব্যবহার বন্ধ থাকবে। জানা গিয়েছে, জল বাড়লে লোহার চেন দিয়ে আন্ডারপাস প্রবেশের দুই মুখ আটকে রাখতে হয় রেল কর্তৃপক্ষকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাবলারির রেলের আন্ডারপাসটি নির্মাণের সময় থেকেই নিকাশির ত্রুটি রয়েছে। আন্ডারপাসের ভিতর দু’ দিকে ড্রেন নেই। আন্ডারপাসের রাস্তাটি নিচু। দুই প্রান্তের রাস্তার ঢাল বেয়ে জল আন্ডারপাসের মাঝখানে এসে জমে যায়। আর ওই জল বের হওয়ার জন্য দেওয়ালের গায়ে ছোট্ট একটি মাত্র গর্ত কাটা রয়েছে। গর্তের ওপারে একটা রিজার্ভার করা আছে জমা জল গিয়ে পড়বার জন্য। সেই রিজার্ভারটি আকারে ছোট হওয়ায় সেখানে পর্যাপ্ত জল ধরে না। পাম্প দিয়ে জল ছেঁচে ফেলতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, কেন পাম্প ব্যবহার করতে হবে। আগে থেকেই পরিকল্পিত নিকাশি ব্যবস্থা করা হল না কেন। স্থানীয় বাসিন্দা অসিতকুমার দে বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে এই রেলের আন্ডারপাস তৈরি হয়েছে। তখন থেকেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিন বছর আগে একজন জলে ডুবে মারাও গিয়েছেন। নদীয়ার বাবলারি থেকে পূর্ব বর্ধমানের শ্রীরামপুর, হেমায়েতপুর এই সব এলাকার মানুষদের নবদ্বীপ হাসপাতালে যেতে হলে ভরসা এই আন্ডারপাস। বৃষ্টি হলেই বাবলারি র মানুষদের যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পূর্ব বর্ধমানের শ্রীরামপুরের লোকজন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং হাসপাতালে যাওয়ার জন্য আসত। এখন এই রাস্তা দিয়ে কেউ আসতে চায় না। বাবলারি দক্ষিণপাড়া বাসিন্দা বাপি দাস বলেন, এখানে প্রাচীন সিদ্ধেশ্বরী মাতার মন্দির রয়েছে এবং সিদ্ধেশ্বরীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই রাস্তাটা শহরের বাইরে বলে অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার খুবই প্রয়োজনীয় রাস্তা হয়ে উঠেছে। দিনে রাতে ২০টা অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করে। বাবলারি পঞ্চায়েতের প্রধান নারায়ণ কর্মকার বলেন, রেলের তরফে সমস্যার সমাধান হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এখনও তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমরা মানুষের স্বার্থে আগামী দিনে আন্দোলনের পথে যাব।