সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার পঞ্চাননতলা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ঘিরে প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জল জমে রয়েছে। বাধ্য হয়ে মার্কেটে ঘর ভাড়া নিয়ে সপ্তাহে দু' দিন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবা চালাতে হচ্ছে কর্মীদের। এদিকে মার্কেটের ওই ভাড়া ঘরে রোগীদের বসার জায়গা না থাকায় তাঁদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এ নিয়ে তাঁরা ব্যাপক ক্ষুব্ধ।
কাটোয়া-১ বিএমওএইচ তাপস বাগ বলেন, পঞ্চাননতলা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বাঁধমুড়ো গ্রামে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। কারণ পুরানো উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বেহাল হয়ে পড়েছে। তাই যেহেতু পুরানো জায়গায় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ছিল। সেখানে দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের পরিষেবা দেওয়ার জন্যই সপ্তাহে দু’দিন পুরানো জায়গাতে আমাদের পরিষেবা দিতে হয়। কিন্তু সেখানে দেড় বছর ধরে জল জমে থাকায় পঞ্চায়েতের দেখে দেওয়া মার্কেটের একটি ঘরেই আমাদের পরিষেবা দিতে হয়। কাটোয়া-১ ব্লকের করজগ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চাননতলা গ্রামে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে দীর্ঘদিন ধরে জল জমে রয়েছে। পঞ্চাননতলা থেকে করজগ্রাম যাওয়ার রাস্তার মধ্যেই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি রয়েছে। সেটি খুব নীচু এলাকায় রয়েছে। তাই ২০২৪ সালে বর্ষাকাল থেকেই জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ওই বছর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে জল ঢুকে গিয়ে ওষুধ থেকে কম্পিউটার সব নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তারপরেই পঞ্চায়েত থেকে ওই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বাঁধমুড়ো গ্রামে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু পঞ্চাননতলা গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য পুরানো জায়গায় সপ্তাহে দু' দিন পরিষেবা চালু রাখতে হয়। যেহেতু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতর জলমগ্ন হয়ে রয়েছে, তাই রাস্তার বিপরীতে একটি মার্কেটে ওষুধের দোকানের পাশেই ভাড়াঘরে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু রয়েছে। সেখানেই গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা থেকে শিশুদের টিকাকরণ কর্মসূচি সবই চালাতে হয়। সেখানে দুটি গ্রামের বাসিন্দারা চিকিৎসা করাতে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দা বনেনুর বিবি, ফতেমা বিবি বলেন, মার্কেটে বসার জায়গা নেই। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে তো যাওয়াই যায় না। হাঁটু জলে ডুবে রয়েছে। আমরা চাইছি পুরানো ভবনটির সংস্কার করা হোক। এদিকে করজগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নারায়ণ সাঁতরা বলেন, আমরা তো বাঁধমুড়ো গ্রামে ওই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি স্থানান্তরিত করেছি। পুরানো ভবনে জমে থাকা জল পরিষ্কার করে দেওয়া হবে। কাটোয়া ১ পঞ্চায়েত সমিতির অধীনে ৯ টি পঞ্চায়েত রয়েছ। শ্রীখন্ড পঞ্চায়েতে একটি, গোয়াই একটি, কোশিগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুটি, সরগ্রাম, আলমপুর, গীঁধগ্রাম, সুদপুরে একটি করে, খাজুরডিহি পঞ্চায়েত এলাকায় দুটি ও করজগ্রামে একটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়া হয়েছে। কাটোয়া মহকুমার অনেক উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো খুব একটা ভালো নয়। অভিযোগ, মহকুমার বেশির ভাগ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতেই স্বাস্থ্যকর্মীরা ইচ্ছামতো আসেন। বেশ কিছু এলাকায় আবার তালাবন্ধ হয়েও পড়ে থাকে বলে অভিযোগ। সেখানে চিকিৎসা পরিষেবাও খুব একটা ভালো নয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশও ঠিকমত আসেন না বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোও বেহাল অবস্থায় রয়েছে।-নিজস্ব চিত্র