নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ডিভিসির ছাড়া জলে টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জলমগ্ন হয়ে রয়েছে খানাকুলের নিচু এলাকাগুলি। বৃহস্পতিবারও সেই জমা জল পেরিয়েই বাসিন্দাদের যাতায়াত করতে হয়েছে। তারফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বাসিন্দারা। নৌকার চাহিদা ছিল বিভিন্ন জায়গায়। তা নিয়ে বুধবারই ক্ষোভের সুর শোনা যায় দুর্গতদের একাংশের মধ্যে। হুগলি গ্রামীণের পুলিস সুপার কামনাশিস সেন নৌকা দেওয়ার আশ্বাস দেন। অবশেষে খানাকুল থানার তরফে খানাকুলের জগদীশতলায় চালু হল বিনামূল্যে নৌকা পরিষেবা। যাত্রীরা সেই নৌকায় চেপে যাতায়াত করতে পারবেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকা চলছে। এছাড়া মারোখানা এলাকায় ট্রাক্টর পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
এদিন আরামবাগের মহকুমা শাসক রবি কুমার, খানাকুল-২ বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া মারোখানা এলাকায় ট্রাক্টরে চেপে জল মগ্ন এলাকার পরিস্থিতি দেখতে যান। তাঁরা নির্মীয়মাণ বাঁধের অংশ খতিয়ে দেখেন। প্রশাসন জানিয়েছে, এদিন পর্যন্ত মারোখানা, জগৎপুর ও রাজহাটি-১ পঞ্চায়েত এলাকায় পাঁচটি জায়গায় দুর্গতদের রান্না করা খাবার দেওয়া হয়েছে।
বিডিও বলেন, কিছু এলাকায় এখনও তা রয়েছে। তবে নতুন করে কোনও এলাকায় জল ঢোকেনি। প্রশাসন দুর্গতদের পাশে থেকে সবরকম সাহায্য করছে। ত্রাণ, ত্রিপল ও পানীয় জলও পাঠানো হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিভিসি এখনও জল ছাড়া অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬২ হাজার ১০০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে। তার জেরে রূপনারায়ণ নদের জলস্তর অনেকটাই বেড়েছে। জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। ওই নদে চরম বিপদ সীমা ধরা হয় ৭.৪৬ মিটারে। এদিন দুপুরে তা ছিল ৭.৪৪ মিটার। রূপনারায়ণ নদের জলস্তর বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন প্রত্যেকেই। মুণ্ডেশ্বরী ও দামোদর নদেও জলস্তর একই রয়েছে। ওই দু’টি নদীতে অবশ্য জল স্তর এখনও বিপদ সীমা ছোঁয়নি বলে সেচদপ্তর জানিয়েছে। তবে, দ্বারকেশ্বর নদের জলস্তর আগের তুলনায় কমেছে।
মারোখানার বাসিন্দা অসীমকুমার মান্না বলেন, যাতায়াতের মূল রাস্তায় এখনও জল রয়েছে। ফলে জল পেরিয়ে হেঁটে যাতায়াত করছি। এদিকে, টানা বর্ষণের জেরে গোঘাটের শাওড়া পঞ্চায়েতের বড়মা গ্রামে একটি তিনতলা কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়ে। বাড়ির কর্তা শেখ আব্দুল ইয়াসিন কৃষিজীবী। তিনি ও তাঁর ভাইয়ের পরিবার ওই ঘরে থাকেন। আব্দুল সাহেবের ছেলে শেখ ইসরাফিল বিডিও অফিসে অস্থায়ী কর্মী। তিনি বলেন, সকাল ৬টা নাগাদ বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। আচমকা বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। তিনতলা ঘরের তিনটি রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়ির অন্য সদস্যরা সেই সময় বাইরে ছিলেন বলে অল্পের জন্য প্রত্যেকেই রক্ষা পেয়েছেন। বাড়ির আসবাব পত্র সরানো নিয়ে চিন্তায় পড়েছি। ঝুঁকি নিয়ে বেহাল ঘরেই আপাতত থাকতে হবে। বাড়ি তৈরির জন্য প্রশাসনিক সাহায্য পেলে ভালো হয়। শাওড়া পঞ্চায়েতের প্রধান মিঠু গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, একটি কাঁচা বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়েছে। পরিবারটিকে ত্রিপল দেওয়া হবে। -নিজস্ব চিত্র