সংবাদদাতা, কান্দি: স্কুল চত্বরে জমে রয়েছে হাঁটু সমান জল। শ্রেণিকক্ষেও হাঁটুর নীচ পর্যন্ত জল থইথই করছে। ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। বাকিদের নিয়ে শিক্ষকরা ক্লাস করাচ্ছেন গ্রামের দুর্গা মন্দিরে। গত একমাস ধরে কান্দি ব্লকের রাজারামপুর ৬০নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছবিটা এইরকমই। এবিষয়ে শিক্ষকরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও সমাধান হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সাল থেকেই স্কুলটি এমন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় স্কুল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। জল সরতে সময় লেগে যায় দুর্গাপুজো পর্যন্ত। মাঝের এই তিনমাস স্কুল চলে গ্রামের দুর্গা মন্দিরে, কিংবা স্কুল ছুটি থাকে। এবছরও তেমনই অবস্থা হয়েছে। বর্ষা নামতেই স্কুল চত্বরের প্রায় ৫০ মিটার এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এমনকী, শ্রেণিকক্ষের ভিতরেও হাঁটুর নীচ পর্যন্ত নোংরা জল। ফলে একমাসের বেশি সময় ধরে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।
চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ওই স্কুলে রয়েছে ৬২জন ছাত্রছাত্রী। দু’জন শিক্ষক ও একজন পার্শ্বশিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষকরা নিয়মিত এলেও ছাত্রছাত্রীদের অধিকাংশই স্কুল কামাই করছে। প্রধান শিক্ষক সপ্তমকুমার অধিকারী বলেন, আমরা অভিভাবকদের জানিয়েছি, ইচ্ছে হলে ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠাবেন। কিন্তু, জমাজলের জেরে কোনও বিপদ ঘটলে আমরা দায়ী হব না। তিনি বলেন, প্রায় ১৩ বছর ধরে স্কুলের এমন অবস্থা চলছে। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও সুরাহা হয়নি। সম্প্রতি পড়ুয়াদের ক্লাস নিতে হচ্ছে গ্রামের দুর্গা মন্দিরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গ্রামের পিচ রাস্তা থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে একটি নিচু এলাকায় স্কুলটি রয়েছে। সেখানে কার্যত গোটা গ্রামের জল এসে জমা হয়। কোনও নিকাশি নালা নেই। ফলে জমা জল পাম্প করে বের না করলে দুর্গাপুজো পর্যন্ত জমে থাকবে।
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শুভজিৎ দলুই বলে, স্কুলে ঢুকতে গেলেই প্যান্ট ভিজে যায়। পড়ে গিয়ে ব্যথা পাওয়ার ভয়ও আছে। তাই যেদিন দুর্গা মন্দিরে ক্লাস হয়, সেদিন আসি। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা ঘোষ, বর্ষা পালরা বলে, এইসময় আমাদের পক্ষে স্কুলে আসা খুবই সমস্যার। হাঁটুর উপরে স্কার্ট তুলে জল পেরিয়ে স্কুলে ঢুকতে হয়।
জানা গিয়েছে, গত ১ জুলাই থেকে স্কুলে মিড ডে মিলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক বলেন, স্কুলের রান্নাঘরেও জল ঢুকে গিয়েছে। তাই মিড ডে মিল বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে দু’বার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অভিভাবক শান্ত ঘোষ বলেন, আমরা ১২ বছর ধরে প্রশাসনের কাছে নিকাশি সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছি। প্রশাসনের লোকজন বারবার এলেও কোনও সমাধান হয়নি।
কান্দির বিডিও শ্রীকুমার ভট্টাচার্য বলেন, এই সমস্যা মেটাতে গেলে গ্রামের মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। জল নিকাশির জন্য কেউ জমি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন না। কেউ আবার নালা বন্ধ করে রেখে দিয়েছেন। আপাতত পাম্প করে জল বের করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতকে বলেছি। কিন্তু, কেন তা এখনও হল না, খোঁজ নিয়ে দেখছি।-নিজস্ব চিত্র