সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে জলের অভাবে কাজকর্ম শিকেয় ওঠার জোগাড়। গত ২০ দিনেরও বেশি হল জলের অপ্রতুলতায় ডায়ালিসিস, ওটির মতো জরুরি পরিষেবা দিতে গিয়ে নাজেহাল হতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। মিলছে না পানীয় জলও। রোগীর পরিজনদের বাইরে থেকে বোতলবন্দি জল কিনে তেষ্টা মেটাতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রামপুরহাট মেডিকেল কলেজে বীরভূম জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা মুর্শিদাবাদ ও পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডেরও বহু মানুষ নির্ভরশীল। এই জলহীন অবস্থা প্রায় মাসখানেক হতে চললেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভ্রুক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ। সরকারি হাসপাতালের এই হাল নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে রামপুরহাট মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে তৈরি হয়েছিল ঝাঁ চকচকে মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। ২০১৯ সালের নভেম্বরে সেই বিল্ডিংয়েই শুরু হয় রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পথচলা। অথচ কয়েক বছর যেতে না যেতেই পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে উঠেছে। এমনিতেই দুর্গন্ধের ঠেলায় হাসপাতালের শৌচালয়ে ঢোকা দায়। তার উপরে জল না থাকায় অবস্থা দুর্বিসহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাসিরুল শেখ নামে এক রোগীর বক্তব্য, শৌচালয়ে একফোঁটা জেল নেই। প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করা যাচ্ছে না।
মেডিকেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনো বিল্ডিং যেখানে প্রসূতি ও শিশুরা ভর্তি থাকেন, এসএনসিইউ বিল্ডিং, প্রশাসনিক ব্লক সহ একাধিক বিভাগে জলের হাহাকার। পুরসভা থেকে পাঁচটি করে জলের ট্যাঙ্ক দিচ্ছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। বাধ্য হয়ে সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিংয়ের রিজার্ভার থেকে বিকল্প সোর্সের মাধ্যমে এই সব বিভাগের ওভারহেড ট্যাঙ্কে জল তুলে ওটি ও ডায়ালিসিসি সামাল দেওয়া হচ্ছে। রামপুরহাট মেডিকেল কলেজের এই হাল নিয়ে বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, এমনিতেই মেডিকেল নরকে পরিণত হয়েছে। অপরিষ্কার, দুর্গন্ধ, তার উপরে জল নেই। রোগী ও আত্মীয়রা শৌচালয় ব্যবহার করতে পারছেন না। সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার ব্যাপারে কোনও হেলদোল নেই তৃণমূল সরকারের। খুব শীঘ্রই আন্দোলনে নামছি।
অন্যদিকে মেডিকেলের গভর্নমেন্ট নমিনি তথা রামপুরহাট বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দিন কয়েক আগে মেডিকেলে স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিংয়ে জলের সমস্যার কথা তুলেছিলাম। এখন জলের সমস্যা মেটাতে মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে পিএইচইকে টাকা জমা দিতে হবে। মেডিকেল থেকে রাজ্যে টাকা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। দেখা যাক কী হয়। পিএইচইর রামপুরহাট অ্যাসিট্যান্ট ইইঞ্জনিয়ার সূরয চৌধুরী বলেন, অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ে জলের কোনও সমস্যা নেই। অন্যান্য বিল্ডিংয়ে পুরনো প্রকল্প থেকে জল সরবরাহ হতো। কিন্তু সেখানে ভুগর্ভস্থ জলস্তর কমে যাওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, একবছর আগে বিকল্প হিসেবে নতুন প্রকল্প করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেটা না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যা মিটবে না।
অতিরিক্ত মেডিকেল সুপার ইশ্বরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, শুধু পানীয় জলই নয়। বাথরুম, ওটি, ডায়ালিসিসি সর্বত্রই জলের সমস্যা তীব্র। সুপার স্পেশালিটি বিল্ডিং থেকে অস্থায়ী ভাবে পুরনো বিল্ডিংয়ের সঙ্গে জলের সংযোগ করা হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম জল মিলছে। পিএইচই নতুন বোরিংয়ের জন্য এক কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা চাইছে। বহুদিন আগেই সেই ফাইল রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু অনুমোদন মিলছে না। আশাকরি সামনের মাসে কোনও একটা ব্যবস্থা হবে। হয় নতুন বোরিং হবে। নতুবা এই বিল্ডিং ছেড়ে নতুন বিল্ডিংয়ে চলে যেতে হবে।