নিজস্ব প্রতিনিধি, পাণ্ডবেশ্বর: ইছাপুর থেকে সরপি যাওয়ার ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়েই টোটো নিয়ে যাচ্ছেন বিশ্বরাজ রায়চৌধুরী। টোটোয় যাত্রী নেই, জলের জ্যারিকেনে ভর্তি। ইছাপুরের একটি ঝরনা থেকে জল ভরে তা সরপি, শ্যামসুন্দরপুর সহ বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন। ১৫-২০ টাকা প্রতি জ্যারিকেন জল কিনে খেতে হয় এলাকাবাসীকে। এনিয়ে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ রয়েছে।
শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারি থেকে কুমারডিহি যাওয়ার রাস্তা বেহাল। সর্বক্ষণ কয়লাবোঝাই ডাম্পার ছুটছে। পাশেই চপের দোকানে দাঁড়িয়ে ছিলেন ধীরেন রায়। তিনি বলেন, কয়লাবোঝাই ডাম্পারগুলি এলাকার সব রাস্তাঘাট ভেঙে দিল। কেউ দেখার নেই। কোলিয়ারিকে ভাঙিয়ে প্রভাবশালীরা আখের গুছিয়ে নিল। নবগ্রাম পঞ্চায়েতের কুমারডিহি গ্রাম। রাস্তার উপরই অনাদি কর্মকারের গ্রিলের দোকান। মালিক থেকে কর্মচারী মুখে মাস্ক পরে কাজ করছেন। রাস্তা দিয়ে যাওয়া ডাম্পারের পিছনে উড়তে থাকা বিপুল ধুলোই এর মূল কারণ। তিনি বলেন, নেতারা সবকিছু পকেটে ঢুকিয়ে নিচ্ছে। এই দূষণ, ধুলো নিয়ে কে প্রতিবাদ করবে? স্থানীয় কয়েকজন বলেন, কয়লা কারবার নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেই মামলা খেতে হবে। এটাই অলিখিত নিয়ম।
পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকাজুড়ে কয়লা কারবারের রমরমা রয়েছে। ঝাজরা থেকে সোনপুরবাজারি, জোয়ালভাঙা থেকে কুমারডিহি সহ বহু কয়লা উত্তোলনের প্রজেক্ট রয়েছে। আগে সম্পূর্ণ প্রজেক্টগুলি ইসিএলের অধীনে থাকায় এলাকায় পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, রাস্তা সংস্কার নিয়ে তাগিদ থাকত। এখন ইসিএলের পরিবহণ থেকে বিভিন্ন বিভাগে আউট সোর্সিং হওয়ায় বেসরকারি সংস্থা সেই দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। নানা জায়গায় ওসিপি করার জন্য বিধানসভা এলাকাজুড়ে জলের স্তর নামছে। রাস্তাঘাট ভাঙছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরের দিকে দায় চাপিয়েছে।
পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা ইসিএল মানুষের সমস্যা নিয়ে ভাবছে না। বিজেপির কথায় মানুষকে কষ্ট দিতে বিগত কয়েক মাস ধরে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ওসিপি করার জন্য জলসংকট হচ্ছে। রাস্তাঘাট ভাঙছে। এমন চলতে থাকলে আমরা কোলিয়ারির পরিবহণ বন্ধ করে আন্দোলনে নামব। বিজেপি নানাভাবে বাংলার মানুষকে হয়রান করতে চায়।
বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, অনেক সময় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি দায় এড়িয়ে যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনকে চাপ দিয়ে সেই কাজ করাতে হয়। বিগত পাঁচ বছরে পাণ্ডবেশ্বরে ইসিএলকে কারা নিয়ন্ত্রণ করেছে মানুষ জানে।
বহুক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভাজুড়ে বালি ও কয়লা কারবারের নিয়ন্ত্রণ করতেই নেতারা ব্যস্ত। তাতে সাধারণ মানুষের বহু ছোটোখাটো দাবিও পূরণ হচ্ছে না। ইছাপুর গ্রামের বাদ্যকর পাড়ায় ভূগর্ভস্থ জল পাম্পের মাধ্যমে ট্যাংকে তোলা হয়। প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও তা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এলাকার বাসিন্দা নন্দ বাদ্যকর বলেন, এলাকার নেতাদের আদৌ আমাদের সমস্যা শোনার সময় আছে?