ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: করলা নদীর জল শোধনের প্রকল্প জলেই! লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে জলপাইগুড়িতে করলা নদীর জল শোধনের প্রকল্প হাতে নিয়েছিল পুরসভা। এজন্য নদীর পাড়ে বসানো হয়েছিল বড় বড় ট্যাঙ্ক। ঠিক হয়েছিল, ওই ট্যাঙ্কের সঙ্গে সংযুক্ত পাইপের মাধ্যমে ক্লোরিন মিশ্রিত জল নদীতে ফেলা হবে। এতে শোধন হবে নদীর জল। কিছুটা হলেও ঠেকানো যাবে করলার দূষণ। কিন্তু চালুর কিছুদিনের মধ্যেই ওই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। যা নিয়ে শহরবাসীর কটাক্ষ, করলা নদীর জল শোধনের জন্য হাতে নেওয়া প্রকল্প জলেই গিয়েছে। সরকারি টাকা অপচয় করে কেন ওই প্রকল্প হাতে নেওয়া হল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অবশ্য দাবি, ক্লোরিন মিশ্রিত জল করলা নদীতে ফেলা যাবে না। এতে নদীতে থাকা মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে। সেকারণে ওই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিকল্প ভাবনা চলছে।
জলপাইগুড়ি শহরের উপর দিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে গিয়েছে করলা নদী। করলাকে জলপাইগুড়ির টেমস বলে অভিহিত করা হতো। কিন্তু এখন সেই নদী কার্যত নালায় পরিণত হয়েছে। সেইসঙ্গে নদীর দূষণ চরমে পৌঁছেছে। বেশ কয়েকবছর আগে মারাত্মক দূষণের কারণে করলা নদীতে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছিল। আবারও সেই ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবেশপ্রেমীদের। পুরসভা সূত্রে খবর, করলার দূষণ ঠেকাতে নদীর জলকে ক্লোরিনাইজড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য করলা নদীর ধার বরাবর অন্তত ২০-২৫টি জায়গায় বড় বড় ট্যাঙ্ক বসানো হয়। সেই ট্যাঙ্কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয় পাইপ। ঠিক হয়, ট্যাঙ্কে ক্লোরিন মিশ্রিত জল থাকবে, যা ওই পাইপ দিয়ে ধীরে ধীরে নদীতে মিশবে। এর ফলে নদীর জল শোধন হবে।
জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পিছনে কিংবা সমাজপাড়ায় রবীন্দ্রভবন চত্বরে গেলে নজরে পড়বে, পুরসভার তরফে বসানো ট্যাঙ্কগুলি এখনও রয়েছে। কিন্তু প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। শহরের বাবুপাড়ায় দোকান রয়েছে লখিন্দর রজকের। বলেন, করলা নদীর জল দূষণমুক্ত রাখতে ট্যাঙ্কগুলি বসানো হয়েছিল। কিছুদিন ওই ট্যাঙ্কের জলে ক্লোরিন দেওয়া হল। এতে নদীর জল কিছুটা ভালো হয়েছিল। কিন্তু বহুদিন হয়ে গেল ওই প্রকল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবীণ নাগরিক প্রদীপকুমার গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বহু বছর আগে করলার জল শোধন করে পুরসভা সরবরাহ করত। সেইজল বাসিন্দারা ব্যবহার করতেন। এখন করলা নদীর যা চেহারা, দেখলে সত্যিই খারাপ লাগে। তাঁর তোপ, নদীতে দেদার বর্জ্য মিশছে। প্লাস্টিক-থার্মোকল ফেলা হচ্ছে। প্রশাসন ও পুরসভা হাতগুটিয়ে বসে রয়েছে কেন? • নিজস্ব চিত্র।