সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এক ঝলক দেখে ডোবা বলে মনে হলেও তা কিন্তু নয়। আদতে সেটি জনবহুল এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। অনেক আগেই রাস্তাটি খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। তার উপরে নিকাশি নালা বুজে যাওয়ায় রাস্তার উপর দিয়েই বইছে নোংরা জল। স্বভাবতই ভোগান্তি বেড়েছে মুরারই-১ব্লকের গোঁড়শা পঞ্চায়েতের কাশিমনগর, বৈষ্ণবডাঙা সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দার। এদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মশার উপদ্রব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজগ্রাম থেকে অজগরপাড়া হয়ে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার রাস্তা থেকে ৬৮০মিটার দূরে কাশিমনগর। এই গ্রামের ভিতর দিয়ে বৈষ্ণবডাঙা সহ ঝাড়খণ্ডের একাধিক গ্রামের মানুষ মুরারইয়ে যাওয়া-আসা করে। প্রায় সাত বছর ধরে এই রাস্তাটি বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। কোথাও ঢালাই ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। কোথাও আবার ঢালাইয়ের অস্তিত্বই নেই। তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন বহু স্কুল, কলেজ পড়ুয়া সহ কয়েক হাজার গ্রামবাসী চলাচল করেন। বেহাল রাস্তায় মাঝেমধ্যেই ছোটখাট দুর্ঘটনাও ঘটছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে শেষবারের মতো রাস্তাটি ভালোভাবে সংস্কার হয়েছিল। তারপর এই রাস্তার দিকে ঘুরেও তাকায়নি প্রশাসন। রাস্তা খারাপ হওয়ার ফলে এই এলাকার স্কুল পড়ুয়ারা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। তেমনি এই গ্রামের বাসিন্দাদের রোগী নিয়ে যেতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। রাস্তার উপরে রয়েছে একাধিক বড় গর্ত। নিকাশি নালার জল ছাপিয়ে সেই গর্তগুলি ছোট আকারের পুকুরের চেহারা নিয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে হাসপাতাল, ব্লক অফিস, পঞ্চায়েতে যেতে সকলেরই সমস্যা হচ্ছে।
স্কুল পডুয়া মীর কাশেম বলে, মুরারই বা রাজগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা এটি। কিন্তু, বর্তমানে রাস্তার যা হাল, তাতে সেখান দিয়ে যাতায়াত করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। সাইকেল হাঁটিয়ে নিয়ে যেতে হয়। বাইক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলের সময় নোংরা জল ছিটকে এসে স্কুলের পোশাক নষ্ট করে দেয়। অনেকেই সাইকেল নিয়ে পড়ে গিয়ে জখম হচ্ছেন। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করার দাবি জানাচ্ছি। শুধু রাস্তা নয় এলাকার নিকাশি ব্যবস্থাও বেহাল। বর্তমানে নালা বুজে গিয়ে রাস্তার উপর দিয়েই নোংরা জল বইছে।
বুধবার বেহাল রাস্তা নিয়ে কাশিমনগর গ্রামবাসীদের একাংশ সোচ্চার হন। খবর পেয়ে এলাকায় আসেন পঞ্চায়েত প্রধান সুবীর মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, গত বছরই ইট ও পাথরের গুঁড়ো ফেলে রাস্তা সংস্কার করা হয়েছিল। কিছুটা ঢালাইও করা হয়েছিল। কিন্তু, গ্রামবাসীরা নিকাশি নালাগুলিতে নোংরা আবর্জনা ফেলে বুজিয়ে দেওয়ায় জল রাস্তার উপর দিয়ে বইছে। ফলে, রাস্তার বাকি অংশে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে জেসিবি দিয়ে নালা পরিষ্কারের কাজ শুরু হবে। তবে পুরোটাই ঢালাই রাস্তা করার জন্য জেলা পরিষদে প্রস্তাব দেওয়া আছে। প্রতীকী ছবি