নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন পরিকল্পনা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। জানা গিয়েছে, অতি শীঘ্রই কলকাতায় শুরু হতে চলেছে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা। সেইসঙ্গে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে আরও কিছু নতুন পরিষেবা। কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো প্রযুক্তি আসবে বলে তাঁর জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আজ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। কেরলের কোচিতে ওয়াটার মেট্রো পরিষেবা সফল হয়েছিল। এরপরই কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পনা করে, দেশের মোট ১৮টি শহরে এই পরিষেবা নিয়ে আসা হবে। যার মধ্যে রয়েছে গুয়াহাটি, শ্রীনগর, পাটনা, বারাণসী, অযোধ্যা, প্রয়াগরাজ। প্রথম দফায় এই জায়গাগুলিতে ওয়াটার মেট্রো চালু হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে তেজপুর, ডিব্রুগড়ের নামও। তারমধ্যে নবতম সংযোজন কলকাতা। এবার তিলোওমাতেও ওয়াটার মেট্রো চালুর পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এমনটাই এদিন জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ওয়াটার মেট্রোর পাশাপাশি সাগরমালা-২ প্রকল্পে যোগ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। শিপিং, লজিস্টিকস এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার জন্য যা যা পরিকাঠামোর প্রয়োজন তা তৈরি হবে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অধীনে। সাগরমালা-১ আগের রাজ্য সরকারের অনিচ্ছার জন্য হয়নি। কিন্তু সাগরমালা-২ এর অধীনে রাজ্যে মোট ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে করা হবে ৪৪টি জেটি। সেই সঙ্গে জলপথের জন্য মোট ২৫টি নতুন জেটি তৈরি করা হবে। ঐতিহ্যবাহী ঘাট তথা বাগবাজার, আহিরীটলা, শোভাবাজার, মল্লিকঘাট, রামকৃষ্ণঘাট, বাঁধা ঘাটের মেরামতির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সেগুলি পুজোর মধ্যেই শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে কেন্দ্রের সবরকম সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কপিলমুনির আশ্রম সংলগ্ন সৈকত এলাকার উন্নয়ন করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অপরদিকে, কলকাতা বন্দর এলাকায় কোনোরকম অবৈধ কাজ যেন না হয় সেই কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুরসভা, পুলিশ, সিআইএসএফ, কাস্টমস এবং গোয়েন্দা বিভাগ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দুবাবু। তিনি আরও জানান, পরিবহণ ও শিপিং দপ্তরকে আলাদা করা হবে। তাজপুরে বন্দর গড়তে রাজ্যের হাতে জমি নেই। এখনও পর্যন্ত বন্দর তৈরির জন্য কোনও পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়নি। সেই কারণে নতুন একটি সমুদ্রবন্দর তৈরির কথাও জানালেন তিনি। তাজপুর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রঘাটে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। সেখানে রাজ্যের হাতে প্রচুর জমি রয়েছে। সেখানে সহজেই বন্দর গড়ে তোলা সম্ভব বলে আশাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।