সংবাদদাতা, হবিবপুর: টাঙ্গন নদীর জল বাড়তেই ফের ভাঙন আতঙ্কে এলাকার বাসিন্দারা। বাঁধ ভেঙে নদীর জল এলাকায় ঢুকলে নষ্ট হবে ৩০০ একর জমিতে থাকা স্বর্ণা ধান। পাশাপাশি ভিটে-বাড়ি, জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন বাসিন্দারা। এমনই পরিস্থিতি বামনগোলা ব্লকের গোবিন্দপুর মহেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠ্যাংভাঙা ও বামনগোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পার-হবিনগর উত্তরপাড়ায়। ইতিমধ্যেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ইঁদুরের গর্তের ভিতর দিয়ে জল চলে এসেছে ধানের জমিতে। জল আরও বাড়লে সমস্যা হবে। তাই অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বাসিন্দারা।
যদিও সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি দেখে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছে মালদহ জেলা সেচদপ্তর। অবিলম্বে বাঁধ সংস্কার করা হবে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন। বাসিন্দারা বলেন, পার-হবিনগর উত্তরপাড়া গ্রামে ১৫০টি পরিবারের বসবাস। ইতিপূর্বে নদী ভাঙনে তাঁরা দু’বার জমি-বাড়ি হারিয়েছেন। নতুন করে বাড়ি তৈরি করে তাঁরা বসবাস করছেন। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নদী বাঁধের আর ৭ ফুট অংশ ধসে গেলেই ফের নদীগর্ভে চলে যাবে বাড়িঘর। টানা ক’দিন বৃষ্টি হলেই আর মিলবে না রেহাই। তাছাড়া প্রতিবছর বর্ষায় টাঙ্গনের জল বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিন ফসলি কৃষিজমি সহ বসত এলাকাতেও ভাঙন লক্ষ্য করা যায়। গত বছর বর্ষায় জামডাঙ্গা এলাকার চৌধুরীপাড়া ও ছেদনতলা এলাকার চাষযোগ্য কৃষি জমি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। এর জেরে প্রচুর চাষের জমি চলে গিয়েছে যায় টাঙ্গনে। তাই বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। অবিলম্বে তাঁরা পাথরের বোল্ডার দিয়ে বাঁধ তৈরির দাবি জানিয়েছেন।
প্যারিমোহন মণ্ডল নামে এক বাসিন্দা জানান, প্রতি বছর বর্ষায় উত্তরের তিস্তার জল টাঙন নদী দিয়ে হুহু করে বয়ে যায়। এরফলে এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। গত বছর আধিকারিকরা পরিস্থিতি পরিদর্শন করে ১১০০ মিটার নদী বাঁধ পাথর দিয়ে তৈরির কথা জানিয়েছিলেন। অবিলম্বে সেই কাজ শুরু করা হোক। মালদহ জেলা সেচদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, এখনই বাসিন্দাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও দরকার নেই। পুরো বিষয়টির উপর আমরা নজর রেখেছি।