সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: গঙ্গা নদীর জলস্তর বাড়ছে। প্রতিদিন একটু একটু করে নদী ফুলে উঠছে। জলের স্রোতও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে যে কোনও দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিস আগে থেকেই প্রচার চালাচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিস গঙ্গা-তীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক করে। ওই এলাকায় মাইকিং করে প্রচার চালানো হয়। বিশেষ করে বাড়ির শিশুকিশোরদের নজরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারা যাতে একা নদীতে স্নান করতে না আসে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নদীতে এলে যাতে তাদের চোখে চোখে রাখা হয়-সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সামশেরগঞ্জ থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রায়ই নদীতে স্নানে নেমে জলে তলিয়ে নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। গঙ্গা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসময় বাড়ির শিশুদের নজরে রাখা প্রয়োজন। বাড়ির বড়রা যাতে এবিষয়ে সতর্ক থাকেন, সেজন্য আমরা সচেতনতা প্রচারে নেমেছি।
সামশেরগঞ্জে গঙ্গা নদীতে স্নানে নেমে প্রায়শই জলে তলিয়ে যাওয়ার খবর আসে। মাসে এক বা একাধিকজন জলে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে অনেকের মৃতদেহ উদ্ধার হলেও বহু নিখোঁজের আর কোনও হদিস মেলে না। যারা নদীতে তলিয়ে যায়, তাদের বেশিরভাগই বালক ও কিশোর। এভাবেই বহু মায়ের কোল খালি হয়ে গিয়েছে। বর্ষার মরশুমে নদীতে প্রতিদিনই জলস্তর বাড়ছে। সেজন্য এদিন প্রশাসনের তরফে নদী-তীরবর্তী এলাকার মানুষকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করা হয়। বিশেষ করে বাড়ির ছোটদের উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ অনেকক্ষেত্রেই তারা পরিবারের বড়দের নজর এড়িয়ে নদীতে স্নানে নামে। তারপর জলের স্রোতে ভেসে তলিয়ে যায়। আবার অনেক সময় বড়দের সঙ্গে এসেও অনেক শিশুকিশোর নদীতে তলিয়ে যায়। তাদের উপর সজাগ দৃষ্টি না রাখার কারণেই এমনটা ঘটে বলে পুলিসের অভিমত।
স্থানীয় বাসিন্দা করিম মোমিন, হামদুল শেখ ও রবি মণ্ডলের অভিমতও একই। তাঁরা বলেন, নদীতে জল বাড়ছে। ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে গঙ্গা। ছোটরা যাতে নদীতে না আসেন সেজন্য তাদের উপর নজর রাখা উচিত।
গত রবিবার দুপুরে ফরাক্কায় গঙ্গায় স্নান করতে নেমে নবম ও দশম শ্রেণির দুই ছাত্র আকাশ শেখ ও সাহিদ শেখ তলিয়ে যায়। ওইদিন সন্ধ্যায় সাহিদ শেখের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। যদিও আকাশের কোনও সন্ধান মেলেনি। এভাবেই ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, সূতি, রঘুনাথগঞ্জ ও সাগরদিঘিতে গঙ্গায় স্নান করতে নেমে প্রায়শই শিশু ও কিশোররা তলিয়ে যায়। -নিজস্ব চিত্র