Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৈধরা থেকে জল ছাড়ায় ব্রাহ্মণী নদীর জলস্তর বৃদ্ধি

রবিবার বীরভূমের বৈধরা জলাধার থেকে প্রচুর পরিমাণে জল ছাড়া হয়েছে।

বৈধরা থেকে জল ছাড়ায় ব্রাহ্মণী নদীর জলস্তর বৃদ্ধি
  • ১২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: রবিবার বীরভূমের বৈধরা জলাধার থেকে প্রচুর পরিমাণে জল ছাড়া হয়েছে। আর তাতেই ব্রাক্ষ্মণী নদীর জলস্তর বেড়ে নবগ্রাম ব্লকের হজবিবি ডাঙা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে মিল্কি গ্রামের আদিবাসী পাড়ায় জল ঢুকতে শুরু করে। ইতিমধ্যে কয়েকটি বাড়িতেও জল ঢুকেছে। ওই পরিবারগুলি ঘরের জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আত্মীয় পরিজন এবং উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। দুপুরের পর থেকে রসুলপুরের কিছু এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। নদীর জলস্তর আরও বাড়লে কুতুবপুর, জাফরপুর, ডাঙাপাড়া সহ নদীপাড়ের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হতে পারে এমনটাই স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। লালবাগ মহকুমা শাসক বনমালি রায় বলেন, প্রতি বছর বর্ষায় ব্রাক্ষ্মণী নদীর জলে নবগ্রাম ব্লকের বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়। এবছরও সোমবার সকাল থেকে ব্রাক্ষ্মণী নদীর জল হজবিবি ডাঙা অঞ্চলের দু-একটি এলাকায় ঢুকছে শুনেছি। জল ঢুকতে শুরু করায় মিল্কি গ্রামের আদিবাসী পাড়ার কয়েকটি পরিবার নিজেরাই অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত, ব্লক প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর ২৪ ঘন্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। 

Advertisement

নবগ্রাম ব্লকের মধ্য দিয়ে বয়ে গিয়েছে ব্রাক্ষ্মণী নদী। ব্রাক্ষ্মণীর দুই পাড়ে রয়েছে হজবিবি ডাঙা পঞ্চায়েতের মিল্কি, রসুলপুর, কুতুবপুর, জাফরপুর, ডাঙাপাড়া সহ একাধিক গ্রাম। ফিবছর বর্ষায় নদীপাড়ের গ্রামগুলি প্লাবিত হয়। কাজেই বর্ষা এলেই নদীর দুই পাড়ের গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গত বেশ কয়েকদিনের টানা নিম্নচাপের বৃষ্টিতে ইতিমধ্যে নবগ্রাম ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার ধানের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। এরই মধ্যে রবিবার রাতে বৈধরা জলাধার থেকে ৩১ হাজার ৬০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়। আর তাতেই ব্রাক্ষ্মণী নদী জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বিপত্তি ঘটেছে। মিল্কির আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা চিন্তামণি রাজবংশী বিছানাপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে পাড়ায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। ঘরের জিনিসপত্র একটা একটা করে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। অপর বাসিন্দা মিন্টু রাজবংশী বলেন, এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অথচ জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের কারও দেখা নেই। তৃণমূলের নবগ্রাম ব্লক সভাপতি মহম্মদ এনায়েততুল্লা বলেন, বৈধরা জলাধার একবারে ৩১ হাজার ৬০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। গত ৪০ বছরে একসঙ্গে এত জল ছাড়া হয়নি। একসঙ্গে এত পরিমাণ জল ছাড়ায় ব্রাক্ষ্মণী জলস্তর বেড়ে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ